শেখ হাসিনাকেই ফেরত চাইছি, কাদেরকে কেন নয়: তথ্য উপদেষ্টা
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

ছবি: আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ওবায়দুল কাদের, সাদ্দামসহ পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। বিশেষ করে ভারতে যারা আছেন তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কথা হয়েছে। উপদেষ্টা প্রশ্ন করেন, শেখ হাসিনাকেই ফেরত চাইছি, কাদেরসহ অন্যদের কেন নয়?
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তার সঙ্গে বৈঠকে যে ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে দণ্ডিত আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ছিল।
বাংলাদেশের সঙ্গে একটা ওয়ার্কিং এনগেজমেন্টের জন্য শুধু শেখ হাসিনাই নয়, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য যে আসামিরা রয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ভারতকে বিবেচনা করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন এ উপদেষ্টা। দুদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এটি অন্যতম শর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে আজ মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডিত অন্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
আসামিদের অনুপস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
তথ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সেটি পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন— স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। সরকারের কাছে যে তথ্য রয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকেই সেটি হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
তিনি জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরাসরি সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত। অন্য নির্বাচনগুলো আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই করতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সেই কাঠামোর মধ্যে পড়ে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি নিয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা গ্যাপ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।



