বিএজের প্রতিবেদন
ক্যামেরা থামাতে হামলা, কণ্ঠ রুখতে মামলা
- আগস্টে আক্রান্ত ৫১ সাংবাদিক

ফাইল ছবি
গেল আগস্ট মাসটি দেশের সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)। সংগঠনটি বলছে, ‘আগস্টে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন অন্তত ৫১ জন সাংবাদিক।’
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিএজে জানিয়েছে, এক মাসে ৪২ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচজন আইনি হয়রানি এবং চারজন হুমকি, হেনস্তা ও পেশাগত কাজে বাধার মুখে পড়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, কিশোর গ্যাং এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে ১৮টি ঘটনায় অন্তত ৪২ জন সাংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় পথচারী নারীকে পুলিশের মারধরের ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় গ্লোবাল টেলিভিশনের মালটিমিডিয়া রিপোর্টার বুলবুল হোসেনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে অমানবিক নির্যাতন করা হয়।
এ ছাড়া আগস্ট মাসে সাংবাদিকদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলায় কামরুজ্জামান কায়েসসহ ৬ সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। রাজধানীর বকশীবাজারেও ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক আহত হন।
অন্যদিকে, কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি চক্রের হামলায় চার সাংবাদিক আক্রান্ত হন এবং যশোরে চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার হামলার শিকার হন পাঁচজন স্থানীয় সাংবাদিক। হামলার শিকারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি, ওমর আলি সোহাগ, যমুনা টিভির রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, স্টার নিউজের মোহাম্মদ জুবাইর, আবদুল্লাহ আল মারুফ, সময় টিভির বি এম ইস্রাফিল, নিউজ টোয়েন্টি ফোরের বিধান মজুমদার অনি, বাংলাদেশ বেতারের রাব্বি আহমেদ, সমকালের নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের আইনি হয়রানির শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। আগস্ট মাসে অন্তত পাঁচজন সাংবাদকর্মী আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হুমকি, হেনস্তা ও বাধার সম্মুখীন হন অন্তত চারজন সাংবাদিক।
বিএজে মনে করে, সাংবাদিকদের ওপর চলমান হামলা, বাধা ও আইনি হয়রানির পেছনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দায়ী। রাজনৈতিক ক্ষমতা কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা মুক্ত গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।






