এসএসসি ফল প্রকাশ: ছয়দিনে ১০ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
- • ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করে ৪০৩ জন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে ছয়দিন হলো। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সাতজনই মেয়ে, যা মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশ। ফল প্রকাশের পর থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আঁচল ফাউন্ডেশন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর মানসিক চাপে পড়েছিলেন। অন্তত পরিবার ও স্থানীয় সূত্র বলছে তেমনটাই।
গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, গোপালগঞ্জ, মেহেরপুর, কুমিল্লা ও চুয়াডাঙ্গায় অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন ছেলে। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন গত মে মাসে ভোলায় ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার আশঙ্কায় এক নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছিল।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩১০; ২০২৩ সালে ৫১৩ এবং ২০২২ সালে ৫৩২ জন। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পড়াশোনার চাপ ও পরীক্ষার ফলাফল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি পরীক্ষায় ফেল করা বা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া একজন শিক্ষার্থীর জীবনের মূল্য কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ঠিক করে না। তবে ফলাফলকে সাফল্য-ব্যর্থতার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হলে হতাশা, লজ্জা, ভয় ও সামাজিক চাপ শিক্ষার্থীদের সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আঁচল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার মীম আগামীর সময়কে বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল কারণ আড়ালে থেকে যায়। শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিবার, সমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ফল প্রকাশের সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা বলছে, প্রতিটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা ও প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা যায়।
অপরদিকে ফল প্রকাশের আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ হটলাইন ও মানসিক সহায়তা কার্যক্রম চালু; শিক্ষক ও অভিভাবকদের আত্মহানির ঝুঁকির লক্ষণ শনাক্তে প্রশিক্ষণ এবং ফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীকে অপমান, শাস্তি, ভয় দেখানো ও অন্যদের সঙ্গে তুলনা না করার বিষয়ে সচেতন করতে কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে দাবিতে।
আঁচল ফাউন্ডেশন বলছে, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কাঠামো গঠন করা দরকার।
ফল প্রকাশের পর ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পাশাপাশি সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মহত্যার ঘটনা নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন এড়িয়ে যাওয়ার কথাও বলেছে সংস্থাটি।







