বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রতিহত করবে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সমাবেশস্থলে আসা স্থানীয়দের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আগামীর সময়
রাজপথে কিছু ব্যক্তির বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সব শক্তি দিয়ে বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রতিহত করবে জনগণ— সতর্ক করলেন তিনি।
রবিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে পাকুন্দিয়ায় প্রথম সমাবেশে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাকুন্দিয়া পৌঁছে মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। পরে সমাবেশস্থলে মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতাকর্মী করতালি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানায়।
এ সময় দেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের ওপর আস্থা রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বললেন, ‘জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করেছে। এই সমর্থন দিয়ে আপনারা আস্থা রেখেছিলেন বিএনপির ওপরে। পরিষ্কারভাবে আমি বলে দিতে চাই, ইনশাল্লাহ আপনারা আস্থা ধরে রাখুন— বিএনপি আপনাদের সঙ্গে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে। বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে থাকবে।’
যতদিন বিএনপি টিকে থাকবে, দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না বলেও জানান তারেক রহমান।
রাজপথে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়। তাদের চাকরি-বাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সেই সব বিশৃঙ্খলাকারী।’
‘আজকে শপথ গ্রহণ করি, সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ জনগণের সব শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ করবে। দেশের মানুষ এখন শান্তি চায়, দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায়, দেশের মানুষ কর্মসংস্থান চায়, দেশের মানুষ তার সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, দেশের মানুষ তার পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে তাহলে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সঙ্গে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে- যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের ব্যাপারে’- যোগ করেন তিনি।
সরকারের লক্ষ্য কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন— জানালেন সরকারপ্রধান। ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট গঠন করা, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা এবং সে কারণে আমরা কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা শুরু করেছি। যা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরেছি।’
‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। আপনারা যে সমর্থন দিয়েছিলেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে, সেই সমর্থনের ওপরে আপনারা আস্থা ধরে রাখুন’- আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষ করে কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যাবেন তিনি। সেখান থেকে দুপুরে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং জাতীয় মৎস্যপদক বিতরণের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এ ছাড়া শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কথাও আছে সরকারপ্রধানের।








