৫৩২ প্রাণ কেড়েছে মার্চের সড়ক
- ফেব্রুয়ারির চেয়ে গড়ে প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ
- সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঢাকা বিভাগে, সবচেয়ে কম সিলেটে

খুলনা-মোংলা মহাসরকের গুনাই ব্রিজ এলাকায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হন। ছবি: ফোকাস বাংলা
‘গাজা’ কিংবা ‘ইরান’ যুদ্ধের প্রয়োজন পড়েনি। ঝরা পাতার মতো প্রাণ ঝরছে সড়কে। শুধু মার্চেই নিভেছে ৫৩২ জীবন।
সারা দুনিয়াতেই কি এমন? ইউরোপের দেশ সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ডে বিশ্বের সবচাইতে সড়ক দুর্ঘটনা কম। এশিয়ার দেশ জাপানও এই তালিকায়। দেশগুলোতে সড়কে মৃত্যুর হার কমাতে মানা হয় ‘ভিশন জিরো’ নীতি। যার ছিটেফোঁটাও নেই বাংলাদেশে। এমনকি, বাংলাদেশের সড়ক কেন এত ভয়ঙ্কর?— এমন প্রশ্নের উত্তর পেতে ‘হয়তো দিতে হবে প্রাণ।’
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানাচ্ছে, মার্চে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৩২ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু ও ৬৬ জন নারী। বিভাগের হিসাবে বেশি প্রাণহানি ঢাকায়, কম সিলেটে।
সংস্থাটি শনিবার যে তথ্য দিয়েছে তাতে, মার্চে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৭৬টি। এরমধ্যে ২১৯টি সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২০৪ জন। এই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় নিহত ১২ ও আহত ২৭ জন। পরিসংখ্যান বলছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হন ১৫ দশমিক ৪২ জন। এই সংখ্যা বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৬ জনে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে অধিকাংশ দুর্ঘটনা। এই গতি নিয়ন্ত্রণে দরকার প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ। কারণ উল্লেখ করে পরামর্শ রোড সেফটির। এছাড়া, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানাকে প্রতিবেদনে যোগ করে তারা।
















