উড়োজাহাজ কেনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ইইউ’র
- স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উড়োজাহাজ কেনার বিমানের দাবি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দাবি, ন্যায্য ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। গত বুধবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি ও সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাছে এ দাবি জানান।
এর আগে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর মধ্যে নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার (এনটিবি বা অশুল্ক বাধা) সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সমাধান বিষয়ক এক সভায় বিষয়টি উঠে আসে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত মাসে অনুষ্ঠিত ওই সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ‘বিমান ক্রয়ে ন্যায্য ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অভাব: এয়ারবাস এবং বোয়িং কর্তৃক দাখিলকৃত টেকনিক্যাল ও বাণিজ্যক প্রস্তাব বাংলাদেশ বিমান মূল্যায়ন করছে মর্মে জানিয়ে ইইউ স্বচ্ছ ও ন্যায্য মূল্যায়ন পদ্ধতির বিষয়ে অনুরোধ করেছে।’
ইইউ’র এ অনুরোধ পাওয়ার পর বিমানের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে বিমান এমডি ও সিইও জানান, উভয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের আর্থিক ও কারিগরি মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট (এসএমই) এবং বহিঃসংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত টেকনো-ফাইন্যান্সিয়াল ইভ্যালুয়েশন কমিটি (টিইসি)-এর মাধ্যমে হয়েছে।
বিমান আরও জানায়, মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির মতামত এবং বিমানের নিজস্ব প্রকিউরমেন্ট পলিসি ও ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল অথরিটি অনুসরণ করে করা হয়েছে। যা ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিমানের পরিচালনা পর্ষদের ৩২৪তম সভায় অনুমোদন পায়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে দরকষাকষি সম্পন্ন হয়। পরে ল’ ফার্ম উড়োজাহাজ কেনার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদ এন্ড এসোসিয়েটস (এসআইএএন্ডএ) দিয়ে চুক্তির আইনি যাচাই বা লিগ্যাল ভেটিং করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতও নেওয়া হয় এ বিষয়ে। তারপর বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় হওয়ায় স্বচ্ছতা বা ন্যায্যতার ঘাটতির কোনো সুযোগ নেই বলে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি।
এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে আটটি 787-10, দুটি 787-9 এবং চারটি 737-8 উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এজন্য মোট ব্যয় হবে ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
চুক্তির অংশ হিসেবে মোট দামের ১ শতাংশ সাইনিং মানির মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ গত ৫ মে পরিশোধ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধের কথা রয়েছে।
প্রাক-ডেলিভারি পেমেন্ট বাবদ প্রায় ৯৬৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) জোগাড়ে আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তার পথ খুঁজছে বিমান। এ অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করতে হবে এবং মোট ৯৮টি কিস্তিতে বিভক্ত করা হয়েছে। ২০২৭ সালের নভেম্বর থেকে উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি শুরু হওয়ার আগে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে, বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলেও বাজারে সক্রিয় ছিল ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাস। সরকারের কাছে পাঠানো এক ফলোআপ চিঠিতে এয়ারবাস জানায়, তারা নতুন করে আলোচনায় বসে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে আগ্রহী। এয়ারবাসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রাফায়েল গোমেজ নোয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন, প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক শর্ত নিশ্চিত করতে জুলাইয়ের শুরুতেই আলোচনা চূড়ান্ত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বিমানের জন্য আগের প্রস্তাবনা নিয়েই আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী তারা।
এয়ারবাসের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে চারটি A350-900 উড়োজাহাজ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০৩৪ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ডেলিভারি দেওয়া হবে। বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব থাকায় নিট মূল্য কমে প্রতিটি উড়োজাহাজ প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে নামতে পারে। প্রস্তাবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অন্য নির্মাতার সঙ্গে সমগোত্রীয় উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে আলোচনা না করার শর্তও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাইলট ও প্রকৌশলীদের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং ধাপভিত্তিক অর্থ পরিশোধ কাঠামোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।




