দেশে ১৯ শতাংশ পরিবার থাকে ভাড়া বাড়িতে

দেশে আবাসন ইউনিটের সংখ্যা বাড়লেও সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত হয়নি। ছবি: সংগৃহীত
দেশে নিজস্ব বাড়িতে থাকার হার কমছে। বাড়ছে ভাড়া বাসায় থাকার হার। ২০২৩ সালের হিসাবে, দেশের ১৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার ভাড়া বাসায় থাকছে। ২০১০ সালে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
আবাসন নিয়ে এই চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচি—ইউএন-হ্যাবিটাটের ‘ওয়ার্ল্ড সিটিজ রিপোর্ট ২০২৬: দ্য গ্লোবাল হাউজিং ক্রাইসিস— পাথওয়েজ টু অ্যাকশন’ প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়েছে, দেশে আবাসন ইউনিটের সংখ্যা বাড়লেও সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত হয়নি। বরং ২১ শতাংশ পরিবার আবাসন খরচ মেটাতে বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে।
আজ সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’। ইউএন-হ্যাবিটাট বলছে, আবাসন সংকট শুধু বাড়ির ঘাটতির বিষয় নয়। এর সঙ্গে ভাড়া, বসবাসের নিরাপত্তা, পানি, স্যানিটেশন, যাতায়াত, কর্মসংস্থান ও জলবায়ু ঝুঁকিও জড়িত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৩৪০ কোটি মানুষ নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত আবাসন থেকে বঞ্চিত। এ সংখ্যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশ। তাদের মধ্যে ১১০ কোটির বেশি মানুষ বস্তি বা অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বাস করেন।
ভাড়া বাসায় থাকা পরিবারগুলোরও বড় অংশ আবাসন খরচের চাপে রয়েছে। ৪৪ শতাংশ ভাড়াটে পরিবারকে আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি শুধু ভাড়ার পেছনে ব্যয় করতে হয়।
বাংলাদেশের আবাসন পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১০ সালে দেশে আবাসন ইউনিটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৯৭ লাখ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৯০ লাখে।
তবে আবাসন ঘাটতির চিত্রে বড় ওঠানামা রয়েছে। ২০১০ সালে ঘাটতি ছিল ৪৬ লাখ ইউনিট। ২০২০ সালে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৪৮ লাখে পৌঁছায়। পরে ২০২৩ সালে ঘাটতি কমে ৬০ লাখ ইউনিটে নেমে আসে। তবে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ঘাটতি এতটা কমে যাওয়ার কারণ প্রতিবেদনে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
আবাসন ঘাটতি বলতে মানুষের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বা উপযুক্ত বাসস্থানের অভাবকে বোঝানো হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব বাড়ির মালিকানার হারও কমেছে। একই সময়ে বাড়ির মূল্য ও আয়ের অনুপাত বেড়েছে। ২০১০ সালে এ অনুপাত ছিল ৫। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ১০ দশমিক ৯, ২০২০ সালে ১৩ দশমিক ১ এবং ২০২৩ সালে ১২ দশমিক ৬ হয়েছে।
বাড়ির মূল্য ও আয়ের এ অনুপাত যত বাড়ে, গড় আয়ের পরিবারের জন্য বাড়ি কেনা তত কঠিন হয়ে পড়ে। একই সময়ে আবাসন ব্যয়ের চাপে থাকা পরিবারের হারও বেড়েছে। ২০১০ সালে এ হার ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে।



