স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শিশুর রোগ-প্রতিরোধে মায়ের পুষ্টি ও বুকের দুধ অপরিহার্য

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি
দেশে হাম ও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক সচেতনতা ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং জন্মের পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।
আজ রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে হাম ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে দেশে হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান ও প্রতিরোধমূলকব্যবস্থা জোরদার করতে পারলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব। তিনি শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়েদের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্রেস্টফিডিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, হামে মানুষ মারা যাচ্ছে, এখন বসে থাকার সময় নেই। অতীতের মতো এবারও ড্যাবকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি জানালেন, দেশে আইসিইউ সংকট কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে, তবে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।
সেমিনারের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. ফারহানা হক। তিনি জানালেন, দেশে বর্তমানে প্রতি হাজারে প্রায় ৯ জন হামজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্তদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। তার তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮৩ শতাংশ কোনো টিকার ডোজ নেয়নি। একটি টিকা নিলে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং দুই ডোজ নিলে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় নিয়মিত ক্যাম্পেইন ব্যাহত হওয়ায় টিকাদানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও জানালেন তিনি।
ডা. ফারহানা হক আরও বলেছেন, বর্তমানে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন, আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ সায়েম বলেছেন, ২০০০ সাল থেকে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ২০১৫ সালে এক লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ৪০০ জনের বেশি মারা যায়।
তিনি বলেছেন, একজন ব্যক্তি চারবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। ডেঙ্গুর লক্ষণ হিসেবে জ্বর, শরীর ব্যথা ও র্যাশের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, জ্বর চলে যাওয়ার পরের সময়টিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত বমি, বুকে ব্যথা ও শরীর ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।





