ধেয়ে আসছে বৃষ্টি বলয় ‘ধারা’, টানা ৯ দিন ভারী বর্ষণের আভাস

সংগৃহীত ছবি
দেশজুড়ে ধেয়ে আসছে চলতি বছরের দ্বিতীয় এবং প্রায় পূর্ণাঙ্গ মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ধারা’। এর প্রভাবে আজ রবিবার (৫ জুলাই) থেকে আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৯ দিন দেশের প্রায় ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় কম-বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম লিমিটেড আজ রবিবার রাতে দেওয়া এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে এই তথ্য।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই বৃষ্টি বলয়টি প্রথমে দেশের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে সক্রিয় হয়ে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে বিস্তার লাভ করতে পারে। এর মধ্যে আগামী ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি বলয়টি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও সক্রিয় থাকবে।
বৃষ্টি বলয় ‘ধারা’ চলাকালীন দেশের সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়া খুলনা ও ঢাকা বিভাগে বেশ সক্রিয় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে মাঝারি ধরনের সক্রিয় থাকতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, অধিক সক্রিয় অঞ্চলে একটানা বৃষ্টির কারণে দেশের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ এলাকার পানি সেচের চাহিদা পূরণ হতে পারে। এ সময় আকাশ অধিকাংশ সময় মেঘলা থাকবে এবং বৃষ্টিবাহী মেঘ প্রধানত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।
বৃষ্টির সময় দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে। তবে এ দফায় শিলাবৃষ্টি বা কালবৈশাখী ঝড়ের কোনো সম্ভাবনা নেই।
বৃষ্টি বলয় চলাকালীন দেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম থাকলেও সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নদনদীর তীরবর্তী অতি বন্যাপ্রবণ নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
উপকূলীয় জেলা বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন নিচু অঞ্চলেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া সিলেট বিভাগের উজানে ভারতীয় ভূখণ্ডে (আসাম ও মেঘালয়) ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি ঢলের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে বলেও পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।
বৃষ্টি বলয়টি সক্রিয় থাকার কারণে দেশের ওপর চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি থিতিয়ে আসবে। অধিকাংশ স্থানের আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকবে। তবে বৃষ্টি যখন বন্ধ থাকবে, তখন খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় সাময়িকভাবে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে উঠতে পারে।
বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি সামুদ্রিক লঘুচাপ অবস্থান করছে। যা ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে। এই লঘুচাপ ও প্রবল মৌসুমী বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল থাকতে পারে।





