ডেঙ্গু পরীক্ষা হবে ফ্রি, ঘোষণা সরকারের
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফ্রি

বর্ষা এলেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। জ্বর, শরীরব্যথা বা দুর্বলতা নিয়ে অনেক মানুষ হাসপাতালে যেতে দেরি করেন। কেউ আবার ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচের কথা ভেবে বাসায় বসেই চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং জটিলতার পাশাপাশি মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ে। এই বাস্তবতায় ডেঙ্গু রোগ দ্রুত শনাক্ত এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তের এনএস১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের কাছ থেকে এ পরীক্ষার জন্য কোনো ফি নেওয়া হবে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু কমিউনিটি পর্যায়ে পদক্ষেপ না নিলে এটা সুফল তেমন পাবে না। এটা নিয়ে এনজিও ও ক্লিনিকগুলা কাজ করতে হবে। জ্বর আসলে যাতে সবাই পরীক্ষা করতে আসে। ডেঙ্গু আক্রান্ত কি না তা জানতে পারে।
ডেঙ্গু শনাক্তে এনএস১ পরীক্ষা সবচেয়ে বেশি কার্যকর, কারণ জ্বর শুরুর প্রথম এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, রোগের শুরুতেই ডেঙ্গু শনাক্ত করা গেলে রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়। এতে রক্তক্ষরণ, শক সিনড্রোম কিংবা অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনএস১ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেই ডেঙ্গুর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রোগের সময় ও শারীরিক অবস্থার ওপর ফলাফল নির্ভর করতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইজিএম বা আইজিজি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা, প্লাটিলেট এবং হেমাটোক্রিট পরীক্ষাও করাতে হতে পারে।
পরীক্ষা ফ্রি করা এটা একটা ভালো উদ্যোগ বলে জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন আগামীর সময়কে বললেন, শুধু সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা চালু করলেই যথেষ্ট হবে না; কমিউনিটি পর্যায়েও নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে দ্রুত শনাক্ত ও মানুষ সচেতন হবে।
‘দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ আয় নষ্ট, যাতায়াত খরচ, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং ভোগান্তির কারণে জ্বরের শুরুতে হাসপাতালে যান না। অনেকেই প্যারাসিটামল খেয়ে সুস্থ হওয়ার আশা করেন এবং সংকটাপন্ন না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা নেন না। তাই এনজিও, স্থানীয় ক্লিনিক ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফল মোবাইল ফোনে জানানো গেলে দ্রুত রোগ শনাক্ত হবে এবং সরকারের উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে’— যোগ করেন ডা. মুশতাক হোসেন।






