আইসিডিডিআরবি,র গবেষণা
হামের জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি
- টিকার বাইরে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের ৯৭.৩%
- এক ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের এই হার ৯২%

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি এমন ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। পাশাপাশি হামের প্রাদুর্ভাবে ভাইরাসের এমন কোনো জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি, যা বর্তমানে ব্যবহৃত টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যেতে পারে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমনটাই জানাচ্ছে আইসিডিডিআর,বি।
আজ রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিডিডিআর,বি বলছে, প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা দেখে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, হাম ভাইরাসে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে কি না, যার কারণে কমে গেছে টিকার কার্যকারিতা। তবে গবেষণার ফলাফল টিকা অকার্যকর হয়ে পড়ার ধারণা সমর্থন করে না।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি বি৩ জিনোটাইপ বা ধরনের, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের হাম প্রাদুর্ভাবেও শনাক্ত হয়েছে।
আইসিডিডিআরবি,র সংক্রামক রোগ বিভাগের ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী নূরজাহান মালিহা বলছিলেন, ‘দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার কম ছিল। তবে হাসপাতালভিত্তিক এই অনুসন্ধান দিয়ে জনসংখ্যা পর্যায়ে টিকার কার্যকারিতার হার নির্ধারণ সম্ভব নয়।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ১৫ হাজার ২৭২ হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হামজনিত বলে সন্দেহ করা ৭২১টি এবং পরীক্ষায় ৯৫টি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।
আইসিডিডিআরবি,র নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদের মন্তব্য, ‘এই প্রাথমিক ফলাফল কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তবে টিকা নেওয়া কিছু শিশু কেন আক্রান্ত হয়েছে, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করছে, অপুষ্টি সুরক্ষাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং শিশুরা কখন মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি হারায়— তা অনুসন্ধানে আইসিডিডিআর,বি আরও বিস্তৃত গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আইসিডিডিআর,বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জড়িত ছিলেন এই অনুসন্ধানে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের কম বয়সী ৩৪১ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় গবেষণায়। পরীক্ষাগারে ৩২৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছিল তিন থেকে আট মাস বয়সী শিশুরা। এই বয়সী ১৪১ শিশুর মধ্যে ১৩৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
গবেষকরা বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন। নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭.৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া এমন ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়। এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন বা ৯২ শতাংশ এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জন বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।
গবেষকরা বলছেন, টিকার কোনো সুরক্ষা না থাকা শিশুদের মধ্যে পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার হার প্রায় ৯৭ শতাংশ থেকে কমে দুই ডোজ পাওয়া শিশুদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ হওয়া, টিকা সুরক্ষা দিচ্ছে এমন ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হামে আক্রান্ত হয়নি এমন শিশুরা এই অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।
আইসিডিডিআরবি,র সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান আগামীর সময়কে বললেন, ‘হাম প্রতিরোধ এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানানো হলেও এই প্রাদুর্ভাব কেন এত বড় হলো, সেটিও আমাদের বুঝতে হবে।’






