এগুলো নাকি ভয়ংকর সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের অস্ত্র!

দুটি দেশীয় তৈরি এলজি। জং ধরা লোহার পাইপ। ভাঙাচোরা কাঠের বাট। একটির ট্রিগারের অবস্থাও বেজায় করুণ। অস্ত্রগুলো দেখে ব্যবহারের উপযোগী বলে মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটি বিদেশি আধাপুরনো পিস্তল, ২টি বুলেট ও ম্যাগাজিন। একটি ধান কাটার কাঁচি। একটি কাঠের হাতলের হাসুয়া।
দেশ জুড়ে তোলপাড় তুলে গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের অস্ত্রভাণ্ডারের অস্ত্র এগুলো। বলছে জেলা পুলিশ।
তাদের ভাষ্য, ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত বসতঘরে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলাও হয়েছে।
একে-৪৭ রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, সাব-মেশিনগান, নাইন শ্যুটার গানের যুগে এসব দেশীয় অস্ত্র যে কারোর মনে সন্দেহ জাগাবে। এরকম দুর্বল অস্ত্রভাণ্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসীর ভয়ংকর রূপকে কখনো প্রতিফলিত করে না। এতে অপরাধের বোঝা হালকা হয়, মামলা দুর্বল হয়ে পড়ে। জনমনে সন্দেহ বাড়ে। বিচারালয়ে যৌক্তিক বিচার মেলে না। দিনশেষে পুলিশসহ আদালত অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ে চলে দেনদরবার ও লেনদেন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার বললেন, ‘অস্ত্র নতুন হোক বা পুরনো হোক অপরাধ প্রমাণিত হলে সাজা একই। কিন্তু এমন ভাঙাচোরা দেখলে জনমনে প্রশ্ন ওঠে।’
শীর্ষ সন্ত্রাসীর মরিচা পড়া ভাঙাচোরা এসব অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাস্যরস সৃষ্টি হয় সংবাদ সম্মেলনেও। ডেভিড ইমনের নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও ফুটেজে শটগান, বিদেশি পিস্তলসহ অত্যাধুনিক আরও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। গত ১৩ জুন রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদুল আলম চৌধুরীকে খুনের সময় এমন ভারী অস্ত্রের ব্যবহারও দেখেছে সকলে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার চার সন্ত্রাসীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম মরিচা ধরা অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন।
জবাবে এসপি বললেন, ‘আমরা যে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি সেটা আসলে তারা জেনে গিয়েছিল। এজন্য হয়তো ডেভিড ইমন তার নিজ এলাকা ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে অস্ত্রগুলো রেখে এসেছিল। এমনও হতে পারে সেগুলো একমাস আগে রেখেছিল। এভাবে থাকলে জং ধরে যায় অনেককিছু। এটা স্বাভাবিক। লোহার জিনিস। সেভাবেই আমরা উদ্ধার করেছি।’
ডেভিড ইমনের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র আছে সেটার তথ্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বের করা হবে বলেও জানালেন এসপি।
বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের অনুসারী শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন ইমন। কেউ কেউ তাকে শয়তান ইমন বলেও ডাকে। যশোর থেকে গতকাল ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।




