বিএমইউতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপন
শিশু রক্ষায় বুকের দুধ নিশ্চিতের তাগিদ

সংগৃহীত ছবি
মায়ের বুকের দুধ নবজাতকের জীবন রক্ষা এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রমাণভিত্তিক কার্যকর উপায়। তবে বাংলাদেশে জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার মাত্র ৪০ শতাংশ এবং প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ দেওয়ার হার ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে। পূর্ববর্তী তথ্যের তুলনায় সূচকগুলোর এই অবনতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করছেন চিকিৎসকরা।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এই চিত্র তুলে ধরেন। বিএমইউ-এর নিওন্যাটোলজি বিভাগ, ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগ এবং বাংলাদেশ নিওন্যাটাল ফোরাম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় চিকিৎসকরা দ্য ল্যানসেট পত্রিকার গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে জানান, বিশ্বব্যাপী সঠিক নিয়মে বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস বাড়ানো গেলে প্রতি বছর ৮ লক্ষাধিক শিশুর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব। কারণ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশের সঙ্গেই অপর্যাপ্ত বা ভুল নিয়মে দুধ খাওয়ানোর যোগসূত্র রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতি বছর ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়। মায়ের দুধ শিশুর সব ধরনের অপুষ্টি ও স্থূলতা প্রতিরোধে দেয়াল হিসেবে কাজ করে। তাই চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি নীতিমালার সমন্বিত প্রয়োগ ছাড়া এই অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ-এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। সভাপতিত্ব করেন ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তাবাসুস পারভীন ও বাংলাদেশ নিওন্যাটাল ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক।
নিওন্যাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাদেকা চৌধুরী মনির সঞ্চালনায় আলোচনায় মডারেটর ছিলেন নিওন্যাটাল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন, রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী ডা. শারমিন জাহান ও ডা. নাদিয়া শারমিন। বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. তাহমিনা বেগম, অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে প্রমুখ।





