জ্বালানি সংকট নিয়ে আইইএ’র পরামর্শ
সমাধান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে
- বস্ত্র ও খাদ্যে শক্তি রূপান্তরে বিপুল সাশ্রয়ের সম্ভাবনা
- সেচে ডিজেলের ব্যবহার কমাতে পারে সৌরবিদ্যুৎ

পরিবহন, শিল্প ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে বাংলাদেশ। এতে খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ-সংকটের ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। গতকাল বুধবার প্রকাশিত ‘স্পেশাল রিপোর্ট অন ইলেকট্রিফিকেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ কত সাশ্রয় করতে পারবে তার নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ নেই প্রতিবেদনে। তবে আইইএ বলছে, জ্বালানি আমদানিকারক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিদ্যুতায়নের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার সুবিধা বেশি। দ্রুত বিদ্যুতায়ন হলে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে বছরে ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতে পারে। এটি ২০২৫ সালে এসব দেশের মোট জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশের বেশি।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশে এখন বড় আকারে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও কয়লা আমদানি করা হয়। এ কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে কিংবা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশের জ্বালানি খাতেও তৈরি হয় চাপ। আইইএর প্রতিবেদনে পরিবহন, বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কৃষিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিদ্যুতায়নের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর শহর সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ এবং মানুষের দৈনিক যাতায়াতের দূরত্ব তুলনামূলক কম। তাই এসব দেশে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যান ব্যবহারের বড় সুযোগ রয়েছে।
আইইএর হিসাবে, দ্রুত বিদ্যুতায়ন হলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বে দৈনিক ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই হবে জ্বালানি আমদানিকারক অঞ্চলে।
এ ছাড়া বস্ত্র, খাদ্য, দুগ্ধ, ওষুধ ও পানীয় শিল্পের মতো যেসব খাতে তুলনামূলক কম তাপমাত্রা প্রয়োজন সেগুলোয় জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বয়লার ও শিল্পে ব্যবহৃত হিট পাম্প কাজে লাগানো তুলনামূলক সহজ।
কৃষিতে সৌরচালিত সেচ: কৃষিতেও বিদ্যুতায়নের বড় সুযোগ দেখছে আইইএ। সংস্থাটির হিসাবে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির অবদান ১ থেকে ২ শতাংশ হলেও দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় তা ১৭ থেকে ১৯ শতাংশ। ফলে সেচ, মজুদ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে অনায়াসে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানি জ্বালানির ব্যবহার কমানো যায়। বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ আইইএর। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা ব্যাটারি, আধুনিক গ্রিড ও চাহিদা ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।



