কফি যখন আড্ডার নতুন ঠিকানা

ঢাকার কোনো ব্যস্ত সড়ক থেকে একটু ভেতরে ঢুকলেই দেখা মেলে পরিচিত এক দৃশ্যের। ছোট ছোট টেবিল ঘিরে কয়েক তরুণের আড্ডা, কারও সামনে ল্যাপটপ, কেউ ব্যস্ত মোবাইল ফোনে, আবার কেউ ধীরে ধীরে শেষ করছেন এক কাপ কফি। শহরের ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা সময় নিজের মতো করে কাটানোর এমন জায়গার চাহিদা বাড়ছে। সেই পরিবর্তনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার ক্যাফে সংস্কৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে স্থানীয় কফি ব্র্যান্ড অ্যারাবিকা কফি।
অ্যারাবিকার গল্প মূলত ঢাকার বদলে যাওয়া কফি-অভ্যাসের গল্পও। একসময় কফি ছিল চাকেন্দ্রিক বাঙালি আড্ডার তুলনামূলক ছোট একটি অংশ। এখন কফিশপ হয়ে উঠছে বন্ধুদের দেখা করার জায়গা, অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের স্থান কিংবা কাজ ও পড়াশোনার ফাঁকে বসার ঠিকানা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অ্যারাবিকার শাখাগুলো সেই নতুন অভ্যাসেরই অংশ।
কফিকে ঘিরে ব্র্যান্ডটির মূল আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই এর মেন্যু। এসপ্রেসো, আমেরিকানো, ক্যাপুচিনো ও লাটের মতো পরিচিত পানীয়ের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ফ্লেভারের কফি। কফির সঙ্গে ক্রসাঁ, ব্যাগেল, স্যান্ডউইচ, ব্রাউনি ও মাফিনের মতো খাবারও রাখা হয়েছে। ফলে এক কাপ কফির জন্য আসা গ্রাহকের সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকার সুযোগও সৃষ্টি হয়।
অ্যারাবিকা কফির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রিমিয়াম অ্যারাবিকা কফি বিন ব্যবহার করে এবং কফি তৈরিতে তাজা রোস্ট করা বিনের ওপর গুরুত্ব দেয়। কফির স্বাদ, ঘ্রাণ ও পরিবেশনের ধরন— এই তিনটি বিষয়ই এখন শহুরে কফি সংস্কৃতিতে গ্রাহকের অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে একটি কফিশপের সাফল্য শুধু কফির স্বাদে আটকে নেই। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত শহরে ক্যাফের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ চান নিরিবিলি বসার জায়গা, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পের টেবিল, আবার কেউ চান ল্যাপটপ খুলে কয়েক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ। এ কারণে একই সঙ্গে খাবার, পানীয়, পরিবেশ ও সেবার সমন্বয় করতে হচ্ছে স্থানীয় ক্যাফেগুলোকে।
অ্যারাবিকার বিস্তারও তাই শুধু একটি ব্র্যান্ডের ব্যবসা বাড়ার গল্প নয়। এর মধ্য দিয়ে ঢাকার তরুণদের জীবনযাপনে কফির ক্রমবর্ধমান জায়গাটিও বোঝা যায়। বিদেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি কফিশপগুলোও এখন নিজেদের স্বাদ ও পরিচয় নিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা করছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, কুড়িল ও চট্টগ্রামে অ্যারাবিকা কফির আউটলেট রয়েছে।
ঢাকার কফি সংস্কৃতি যত বড় হচ্ছে, প্রতিযোগিতাও তত বাড়ছে। ফলে সামনে অ্যারাবিকার মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হবে একই সঙ্গে কফির মান ধরে রাখা, গ্রাহকের নতুন চাহিদা বোঝা এবং প্রতিটি শাখায় অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। দিনশেষে অ্যারাবিকার টেবিলে বসা মানুষগুলোর উদ্দেশ্য অবশ্য এক নয়। কেউ কফি খেতে আসেন, কেউ কাজ করতে, কেউ বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু তাদের হাতে থাকা একই কাপ কফি যেন একটি বিষয়ই বলে— ঢাকার শহুরে জীবনে কফি এখন আর শুধু পানীয় নয়; এটি সময় কাটানোরও একটি নিজস্ব সংস্কৃতি।



