উদ্ভাবনকে বাজারে পৌঁছাতে হবে, বললেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
শুধু ধারণা তৈরি করলেই চলবে না, উদ্ভাবনকে বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন, নীতিগত সহায়তা ও শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্ব। এই বার্তা দিয়ে আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। মেলার প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথা জানালেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি জ্ঞানকে সমাধানে, গবেষণাকে পণ্যে, ধারণাকে উদ্যোগে এবং উদ্ভাবনকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্যে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, উদ্ভাবকদের জন্য মেধাস্বত্বের সুরক্ষা ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী এই মেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিজ্ঞানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের মেধা ও সৃজনশীলতার কোনো ঘাটতি নেই। শিক্ষার্থী, গবেষক, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত নতুন সমাধান তৈরি করছে। তবে এসব উদ্যোগকে বিনিয়োগ, শিল্প ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ, আর এই সংযোগ তৈরিই মেলার মূল উদ্দেশ্য।
মেলায় ব্যক্তিগত উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ফাউন্ডারসহ ১০০ জনের বেশি উদ্ভাবক এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শন করবেন। অংশ নেবে ৭৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংক, করপোরেট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা।
মন্ত্রী বলেন, ‘উদ্ভাবন কখনোই বিচ্ছিন্নভাবে বিকশিত হতে পারে না। এর জন্য সরকার, শিক্ষাঙ্গন, শিল্পখাত, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।’
মেলা সফল করতে সব অংশীদার, বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্ভাবক, গবেষক ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, উদ্ভাবন কীভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে, সে বিষয়ে জাতীয় সংলাপ তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেলায় ব্যক্তিগত উদ্ভাবক থেকে শুরু করে বহুজাতিক কোম্পানি, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সংস্থা, এসএমই ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তাদের একই প্ল্যাটফর্মে আনা হবে, যাতে উদ্ভাবক-বিনিয়োগকারী-নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তিন দিনে মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। ৬টি প্লেনারি সেশন, ৬টি প্যারালাল সেশন এবং ৫টি গোলটেবিল বৈঠক। এসব আলোচনায় অংশ নেবেন নীতিনির্ধারক, শিল্পনেতা, গবেষক, তরুণ উদ্ভাবক ও বিনিয়োগকারীরা। আলোচনায় খোঁজা হবে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্ভাবন, তা বাস্তবায়নের উপায় এবং প্রয়োজনীয় নীতি ও বিনিয়োগের প্রশ্নের উত্তর।
সচিব জানান, মেলা শেষ হওয়া মানেই কার্যক্রম শেষ নয় বরং প্রদর্শিত এক হাজারের বেশি উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে একটি সংযুক্ত ‘ইনোভেশন হাব’ গড়ে তোলার সূচনা করা হবে, যার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনের উন্নয়ন, অর্থায়ন, সুরক্ষা ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।
মেলার নীতিগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) টেকনিক্যাল পার্টনার এবং দ্য ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে।
মেলায় ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, হেলথ ও লাইফ সায়েন্স, ফিনটেক, ক্লাইমেট, স্মার্ট সিটিসহ মোট ১৪টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মেলাটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আর ইমপ্লিমেন্টেশন পার্টনার হিসেবে রয়েছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেড।



