স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আচরণ পরিবর্তনে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
স্বাস্থ্য কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জীবনধারা, সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুল সালাম হলে ‘ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ ও শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক রোগগুলো বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। এসব রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। তিনি সবাইকে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট হাঁটা, সুষম ও ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন’ মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। তাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও জনসচেতনতার ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও নৈতিকতার অবনতি একটি সুস্থ সমাজ গঠনের পথে বড় বাধা বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বললেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, ‘সামাজিক, মানবিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নারীর সম্মান, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ৬০টি ভিডিও নির্মাণ করছে। বর্তমান সমাজে বড়দের প্রতি অসম্মান এবং পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মানুষের মানসিকতা বা ‘মাইন্ডসেট’ পরিবর্তনের তাগিদ দেন।
ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার নওফল জমির বলেছেন, নাগরিক আচরণ পরিবর্তনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যুসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রতি বছর হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ভুল ন্যারেটিভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তাই শিক্ষা সংস্কার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক আচরণ নিয়ে গবেষণা করা জরুরি। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক প্রচারণার মাধ্যমে ইতিবাচক আচরণ উৎসাহিত করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় গ্রন্থাগারের পরিচালক আফসানা বেগম দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এসএসসি সম্পন্ন করার বয়স ও শিক্ষা কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সম্মিলিতভাবে বলেছেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, মানুষের আচরণগত পরিবর্তন এবং নৈতিক উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।




