বিটিএসের গ্র্যামি বর্জন: মূলধারায় স্বীকৃতি চায় বিটিএস

সংগীত বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস’-এ সম্প্রতি যুক্ত করা হয়েছে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফর্ম্যান্স’ নামের নতুন একটি ক্যাটাগরি। তবে পশ্চিমা এই স্বীকৃতিকে উল্টো বয়কট করে নিজেদের গান জমা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS)। তারা জানিয়েছে, আঞ্চলিক বা ভাষাগত পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে সংগীতকে তার নিজস্ব গুনেই মূল্যায়ন করা উচিত। বিটিএসের এই নজিরবিহীন বয়কটের পর বিশ্বসংগীত অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে— ‘এশিয়ান পপ’ লেবেলটি আসলে এশীয় শিল্পীদের মর্যাদা দিচ্ছে, নাকি তাদের মূলধারা থেকে আলাদা করে দেওয়ার এক সূক্ষ্ম কৌশল?
পশ্চিমের প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত পুরস্কারগুলোতে এশীয় বা অ-পশ্চিমা সংস্কৃতিকে সবসময় একটি নির্দিষ্ট 'আঞ্চলিক ক্যাটাগরি' বা 'সাব-ক্যাটাগরির' মধ্যে সীমিত রাখার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। গ্র্যামি আয়োজকদের দাবি, এশিয়ান পপের বৈচিত্র্য ও বিকাশকে নতুন মঞ্চ দিতেই এই সংযোজন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া কোনো একক ধারা বা জেনরা নয়; এটি প্রায় ৫০টি বৈচিত্র্যময় দেশের এক বিশাল মহাদেশ, যার মধ্যে কে-পপ, জে-পপ, সি-পপের মতো বৈচিত্র্যময় শিল্পধারা রয়েছে। এসব বৈচিত্র্যকে একক ‘এশিয়ান পপ’ প্যাকেজে বন্দি করা সাংস্কৃতিক অদূরদর্শিতা ছাড়া আর কিছু নয়।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় গলদ হলো ‘আইসোলেশন’ বা মূলধারা থেকে আলাদা করে দেওয়া। মার্কিন ও পশ্চিমা মূলধারার প্রধান পুরস্কারগুলোর যেমন—‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ বা ‘রেকর্ড অব দ্য ইয়ার’-এর প্রতিযোগী হতে না দিয়ে এশীয় শিল্পীদের একটি পৃথক আঞ্চলিক বিভাগে আটকে রাখাকে অনেকেই ছদ্মবেশী বৈষম্য বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধা হিসেবে দেখছেন। বিশ্বজুড়ে চার্টটপ করা ও বিলিয়ন স্ট্রিম পাওয়া গানগুলো কেবল এশীয় সত্তার কারণে মূল পুরস্কারের যোগ্য বিবেচিত হবে না, এটি শিল্পীদের প্রতি একধরনের অবিচার।
বিটিএস তাদের সামরিক সেবা শেষে ঐতিহাসিক অ্যালবাম ‘আরিয়াং’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে যে তুমুল সাফল্য অর্জন করেছে, তার পর পশ্চিমের স্বীকৃতির জন্য লড়াই করার প্রয়োজনীয়তা তারা আর অনুভব করছে না। এই বয়কটের মাধ্যমে তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে—এশীয় পপসংগীত কেবল 'আঞ্চলিক কৌতূহল' কিংবা সস্তা রেটিং ও ভিউ পাওয়ার হাতিয়ার নয়। নিজস্ব শিল্পসত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাব দিয়ে বিশ্বমঞ্চে মূলধারার সমান প্রতিযোগী হিসেবেই এশীয় শিল্পীরা টিকে থাকবেন।




