২০ টাকাতে বাজিমাত, লটারিতে পেলেন ৩০ লাখ টাকার পুরস্কার

৩০ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার জিতেছেন হানিফ মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
সংসারের টানাপোড়েন, বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেড়ে ওঠা এবং বসতভিটার জমি নিয়ে পারিবারিক জটিলতা, সব মিলিয়ে নানা হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জের হানিফ মিয়া (৩১)। এরই মধ্যে কৌতূহল থেকে ২০ টাকা করে দুটি লটারির টিকিট কিনেছিলেন তিনি। সেই দুই টিকিটের একটির নম্বর ৩০ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে মিলে গেছে বলে দাবি করেছেন হানিফ। তবে আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিজয়ী হিসেবে নিশ্চিত করছে না আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
হানিফ মিয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার জন্য স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে কাজ করেন তিনি। পাশাপাশি হাঁস পালন ও কৃষিকাজ করেও সংসারের ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেন।
হানিফের পারিবারিক জীবনও কেটেছে নানা সংকটে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়ার পর মা হামিদা বেগমকে নিয়ে নানা বাড়িতে বড় হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বসতভিটার জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ তৈরি হলে সেটিও তাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলে।
এমন পরিস্থিতিতেই স্থানীয় বাজারে লটারির টিকিট বিক্রির বিষয়টি জানতে পারেন হানিফ। ভাগ্য পরীক্ষা করতে ২০ টাকা দামের দুটি টিকিট কেনেন তিনি। এতে মোট খরচ হয় ৪০ টাকা। তবে এই সামান্য খরচটিও স্ত্রী নীলা আক্তারের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছিল। সংসারের সীমিত আয়ে ওই টাকা অন্য কাজে ব্যয় করা যেত বলে স্বামীর ওপর কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলেন তিনি।
কয়েক দিন পর অনলাইনে লটারির ফলাফল দেখার সময় নিজের একটি টিকিটের নম্বরের সঙ্গে প্রথম পুরস্কারের নম্বর মিলে যায় বলে দাবি করেন হানিফ। বিষয়টি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি নিজেও। পরে একাধিকবার নম্বর যাচাই করে নিশ্চিত হন।
হানিফের দাবি, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) আয়োজিত সরকার অনুমোদিত ‘বিপিকেএস জাতীয় লটারি-২০২৬’-এর ৩০ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে তার টিকিটের নম্বর মিলে গেছে।
এরপর টিকিটটি নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে যান হানিফ। সেখানে তার টিকিট প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়। এখন আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার জানান, ৪০ টাকা দিয়ে দুটি টিকিট কেনায় স্বামীকে বকাঝকা করেছিলেন তিনি। কারণ, ওই টাকা দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় কিছু কেনা যেত। পরে হানিফ তাকে অনলাইনে লটারির ফলাফল দেখতে বলেন। নম্বর মিলিয়ে প্রথম পুরস্কারের সঙ্গে টিকিটটি মিলে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান তারা।
নীলা বলেন, প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস হয়নি। কয়েকবার নম্বর মিলিয়ে দেখার পরও মনে হচ্ছিল, এত বড় ঘটনা সত্যি হতে পারে না।
এখন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত যাচাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকিটের নম্বর মিলে গেলেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হবে না।
তাই ৪০ টাকার সেই দুই টিকিট এখন হানিফ পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকার স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তার উত্তর মিলবে চূড়ান্ত যাচাই শেষে।






