ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জেনারেল!
- এয়ারপাওয়ারেরও সীমা আছে , শুধু বিমান-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এ যুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ’

যুদ্ধ আরও বাড়ানোর পরিবর্তে কীভাবে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা যায়—এমন একটি পথ খুঁজছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান এখন নতুন এক মোড়ের সামনে। যুদ্ধ আরও বাড়ানোর পরিবর্তে কীভাবে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা যায়—এমন একটি পথ খুঁজছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তার এই উদ্যোগ ওয়াশিংটনের যুদ্ধকৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিরাপত্তা সম্পদ’ খ্যাত গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হামলা ছাড়াই যুদ্ধ বন্ধের পথ খুজছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে খোদ হোয়াইট হাউজেই। ব্যক্তিগত আলোচনায় এরইমধ্যে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘অফ-র্যাম্প’ বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার আওয়াজ তুলেছেন তিনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ তারদের অন্যতম। বলেছেন, ‘ এয়ার পাওয়ারেরও একটা সীমা আছে। শুধু বিমান-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এ যুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ’
সামরিক শক্তি দিয়েই কি মিলছে কাঙ্ক্ষিত ফল?
ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে, তা কতটা বাস্তবসম্মত—এখন সেই প্রশ্নই সামনে আসছে।
মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের মূল্যায়নে, আকাশপথের শক্তি দিয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হলেও শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হতে পারে।
আর সংঘাত আরও বাড়ালে এর পরিণতি কী হবে, সেটিও বড় উদ্বেগের বিষয়।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ, ঝুঁকিও তত বড়
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, অস্ত্রের মজুত এবং যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় নিয়েও চাপ বাড়ছে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার অব্যাহত থাকলে মজুত পুনর্গঠন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা। ইরানের পাল্টা হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে যুদ্ধের হিসাব ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
অফ-র্যাম্প’ আসলে কী?
‘অফ-র্যাম্প’ বলতে বোঝানো হচ্ছে এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে সামরিক অভিযান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সম্মানজনক ও তুলনামূলক নিরাপদভাবে বেরিয়ে আসতে পারে।
অর্থাৎ, যুদ্ধ থামানো মানেই পরাজয় স্বীকার নয়—বরং সামরিক লক্ষ্য, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা।
ট্রাম্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ
জেনারেল কেইনের এই অবস্থান সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি পরিবর্তনের ঘোষণা নয়। তবে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের একটি অংশ সংঘাতের পরবর্তী ধাপ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ইরানের ওপর আরও সামরিক চাপ তৈরি করা হবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাপ্তির পথ খোঁজা হবে?
যুদ্ধের শেষ কোথায়?
ইরান যুদ্ধের শুরুতে সামরিক শক্তির ওপর যে আস্থা ছিল, দীর্ঘ সংঘাতের বাস্তবতায় এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন হিসাব—কতদিন যুদ্ধ চালানো সম্ভব, কতটা সামরিক চাপ কার্যকর, এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
জেনারেল ড্যান কেইনের ‘অফ-র্যাম্প’ খোঁজার বার্তা তাই শুধু একটি সামরিক পরামর্শ নয়; বরং ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে শুরু হওয়া নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের ইঙ্গিত।
প্রশ্ন এখন একটাই—ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক ধাপ এগোবে যুক্তরাষ্ট্র, নাকি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথেই শুরু হবে নতুন অধ্যায়?




