তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয়েছিল জেআইসিতে

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। ছবি: বাসস
এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি)’-এ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
গতকাল শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কমপ্লেক্সে থাকা জেআইসি পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, ‘এক-এগারোর সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসি সেলের কোনো একটি কক্ষে আনা হয়েছিল। সেখানেই তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই গোপন বন্দিশালার অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে। তবে জেআইসি ও র্যাব-১-এর গোপন বন্দিশালা ‘টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে’ (টিএফআই সেল) পাওয়া অনেক আলামত তারা সিলগালা করে রেখেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো তাদের কাস্টডিতে থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জেআইসিতে ২৬টি এবং টিএফআইতে ২৯টি কক্ষ ছিল। এর বাইরে র্যাব-২-এর দপ্তরে আরও একটি ‘আয়নাঘর’ ছিল, যেখানে নির্যাতনের জন্য ইলেকট্রিক চেয়ার বসানো হয়েছিল। এ ছাড়া পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ বা ডিবির একটি ‘টিএফআই সেল’ও সিলগালা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পরিদর্শন করা হবে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো গোপন বন্দিশালা যেন প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর।
সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করেছিল যৌথ বাহিনী। তার বিরুদ্ধে করা হয় ১৩ মামলা। যৌথ বাহিনীর হেফাজতে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তখন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারেক রহমানকে ভর্তি করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।
এক বছর পর, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান তারেক রহমান। সেই রাতেই স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান তিনি।




