অভুক্ত মানুষের খাবার জোগান আজাদ

রাস্তার পাশে অভুক্ত মানুষকে খাবার বিলি করেন আলীম আল রাজী আজাদ
ফরিদপুর শহরের অলিগলিতে অভুক্ত মানুষ প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবেন আজাদ। আলীম আল রাজী আজাদ গিয়ে তাদের হাতে প্যাকেট করা খাবার তুলে দেন। অসহায় মানুষের উপার্জনের পথ করে দেন তিনি। এভাবে চলছে ২০ বছর।
আজাদ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার প্যাকেট খাবার বিতরণ করেছেন। খাবারের মধ্যে থাকে ডিম-খিচুড়ি, ভাত, বিরিয়ানি বা তেহারি। প্রায় ৩০০ মানুষের আয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। তাদের কাউকে দোকান করে দিয়েছেন, কাউকে রিকশা, ভ্যান, সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছেন।
শহরের মানুষ অর্থ দিয়ে সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে দরিদ্রদের খাওয়ানোর জন্য আজাদকে প্যাকেট করা খাবার সরবরাহ করেন। সেই খাবার নিয়ে তিনি ছুটে যান অসহায় মানুষের কাছে।
ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাস করা আজাদ পড়ালেখা শেষ করে চাকরিতে যোগ দেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে। কাজ করেছেন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনীতে। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে মানবিক কাজে নেমে পড়েন ২০ বছর আগে। স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান নিয়ে তার সংসার।
শহরের ২ নম্বর হাবেলি গোপালপুরের রেলওয়ে এলাকার লাইনের রহমান মাতুব্বরকে দেওয়া হয়েছে একটি ভ্যান। রহমান মাতুব্বর বললেন, ‘আজাদ আমার অসহায় অবস্থা দেখে ডাব বিক্রি করার জন্য একটি ভ্যান দিয়েছেন। আমি এই ভ্যানে ঘুরে ঘুরে ডাব বিক্রি করে পরিবার নিয়ে ভালো আছি।’
পৌরসভার মোস্তফার ডাংগী মহল্লার রাহাদ ফকির বললেন, ‘আমার কিছুই ছিল না। বিষয়টি আজাদ ভাই জানার পর আমাকে সরঞ্জামসহ ফুচকা-চটপটি বিক্রির একটি গাড়ি কিনে দিয়েছেন। আমি এখন পরিবার নিয়ে ভালো আছি।’
গৈজদ্দীন মুন্সীর ডাংগীর নিলু ব্যাপারী বলছিলেন, ‘রিকশা কেনার সামর্থ্য আমার ছিল না। আজাদ ভাই আমাকে একটি রিকশা কিনে দিয়েছেন। এই রিকশা চালিয়ে পরিবার নিয়ে সুখে দিন পার করছি।’
মানুষকে কীভাবে সহযোগিতা দিয়ে ভালো রাখা যায়, সেই চিন্তায় মগ্ন আজাদ শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান। শুধু প্যাকেট করা খাবারই নয়, খুঁজে বের করেন কর্মহীন দরিদ্র ও দুস্থদের। তাদের তুলে দেন চাল, আটা, ডাল, আলু, তেল, লবণসহ নানা উপকরণ।
আজাদ বলেছেন, ‘রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, পথে পড়ে থাকা ভিখারি ও দরিদ্ররা অনেক কারণে উপার্জনহীন হয়ে পড়েন। মানবিক কারণে এসব অসহায় পরিবারকে ন্যূনতম কিছু খাদ্যসামগ্রী দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সবার।’ তিনি জানিয়েছেন, ফেসবুকে এই মানবিক কার্যক্রম দেখে তা চালিয়ে যেতে দেশ-বিদেশের অনেকে তার কাছে টাকা পাঠান।
শহরের বাসিন্দা রাহাতের ভাষ্য, আজাদের মতো এমন মানবিক মানুষ সমাজে এখন পাওয়া খুব কঠিন। তিনি যেভাবে মানুষকে অকাতরে সাহায্য-সহযোগিতা করেন, তা ভাবাই যায় না। প্রতিদিন এ কাজ তিনি নিয়ম মেনে করে চলেছেন।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ জানালেন, ফরিদপুরে মানবিক কাজে আজাদের ভূমিকা ব্যাপক। বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। তিনি যেকোনো মানবিক কাজে সবসময় সবার আগে থাকেন।




