মান্নান হীরার জন্মদিনে শুরু স্মারক আয়োজন

আরণ্যক প্রযোজিত ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকের দৃশ্য। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটকটির মঞ্চায়ন হয়
প্রয়াত নাট্যকার, নির্দেশক ও সংগঠক মান্নান হীরার ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আরণ্যক নাট্যদল। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে তার রচিত নাটক ‘ময়ূর সিংহাসন’ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সূচনা হয়।
নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন শাহ আলম দুলাল। এতে অভিনয় করছেন মামুনুর রশীদ, মোমেনা চৌধুরী, আমিন আজাদ, আরিফ হোসেন অ্যাঞ্জেল, কামরুল হাসান, করবী চৌধুরী ও সাঈদ সুমনসহ অনেকে।
আরণ্যক নাট্যদল জানিয়েছে, আয়োজনের দ্বিতীয় দিন আগামী ১০ জুলাই বিকেল ৪টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে হবে ‘মান্নান হীরা স্মারক বক্তৃতা’। এবার বক্তৃতা দেবেন ইউসুফ হাসান অর্ক। তার বক্তৃতার বিষয় ‘নাট্যকার মান্নান হীরার কর্ম ও ভাবনা’।
স্বাধীনতার পর থেকে আরণ্যক নাট্যদল দেশের নাট্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নাটকের মাধ্যমে দলটি দেশপ্রেম, বঞ্চিত মানুষের অধিকার এবং সামাজিক অসংগতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থেকেছে। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে নাট্যচর্চা অব্যাহত রেখেছে।
১৯৫৭ সালের ৭ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্ম হয় মান্নান হীরার। ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
মান্নান হীরার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০২২ সাল থেকে আরণ্যক নাট্যদল ‘মান্নান হীরা স্মারক বক্তৃতা’ আয়োজন করে আসছে। এবারের আয়োজন সেই ধারাবাহিকতার পঞ্চম পর্ব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে আরণ্যক নাট্যদলের মাধ্যমে মান্নান হীরার নাট্যজীবনের সূচনা। তিনি একাধারে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠক ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে পথনাটক চর্চার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তিনি স্বীকৃত। ১৯৯৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া একাধিকবার আরণ্যক নাট্যদলের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
নাটকে অবদানের জন্য ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া বাংলা একাডেমি পরিচালিত শহীদ আকন্দ পদক, থিয়েটার প্রবর্তিত জাকারিয়া স্মৃতি পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।
মান্নান হীরা মঞ্চ ও টেলিভিশনের জন্য অসংখ্য নাটক রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘লাল জমিন’, ‘ময়ূর সিংহাসন’। তার রচিত ও নির্দেশিত পথনাটক ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’ প্রশংসা কুড়িয়েছে। পথনাটক ও মঞ্চনাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণেও যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালে সরকারি অনুদানে নির্মাণ করেন তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’। এছাড়া ‘গরম ভাতের গল্প’ ও ‘৭১-এর রঙপেন্সিল’ নামে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।




