গান ও স্মৃতিচারণে মিতা হকের জন্মদিন উদযাপন

রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে প্রয়াত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হকের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। ছবি : আগামীর সময়
প্রয়াত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হকের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে গান, কথন, স্মৃতিচারণ ও দৃশ্য-উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে দেড় ঘণ্টার এই আয়োজনে গান ও কথনের বিভিন্ন পর্বে তুলে ধরা হয় মিতা হকের জীবন, দর্শন ও কর্ম।
সংগীতশিল্পী সেমন্তী মঞ্জুরী বলেছেন, ‘মিতা হক আসলে এমন একজন শিল্পী, তাকে যে-ই দেখেছে, সে-ই মনে করেছে—আমার সবচেয়ে আপনজন হয়তো উনি। তো এরকম একজন মানুষকে উদযাপন করার জন্যই আজকের আয়োজন। এই আয়োজনটি আসলে আমি, দিদি ভাই এবং উনার কিছু ছাত্র-ছাত্রী মিলেই করেছি। এটি কোনো সংগঠন বা কোনো ব্যানারে হচ্ছে না। আমাদের মনে হয়েছে, তিনি চলে গেছেন পাঁচ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু তাকে উদযাপন করা, তার জীবন, তার কিছু সুনির্দিষ্ট মতামত ও চিন্তাধারা—যেমন দেশ নিয়ে, সংগঠন নিয়ে, গানের শিক্ষকতা নিয়ে—এসব নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।’
‘তার দীর্ঘদিনের সাথী যারা, তাদের আমরা আজকের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা মিতা হককে কেমন দেখতে চেয়েছিলেন, জীবনটাকে কীভাবে উপভোগ করেছেন—তার আশপাশের সবচেয়ে কাছের মানুষ, সবচেয়ে প্রিয়জন যারা, তাদের নিয়ে একটি আয়োজন করতে চেয়েছি। মূলত এটাই আমাদের ভাবনা ছিল’, বলছিলেন সেমন্তী মঞ্জুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মিতা হকের পরিবেশনায় (আর্কাইভ থেকে) ছিল ‘কেমন পৃথিবী দেখতে চাই?’। এরপর সামিনা হোসেন প্রেমা পরিবেশন করেন ‘আজ বুঝি আইল প্রিয়তম’। শাহীন খান স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
পরে ঢাকা মহানগরের সম্মেলক গান পরিবেশিত হয়। পার্থ তানভীর নভেদ কথনের মাধ্যমে তুলে ধরেন মিতা হকের বেড়ে ওঠা ও গান শেখার বিষয়। এরপর সুস্মিতা আহমেদ বর্ণা একক গান পরিবেশন করেন তাঁর কাছে শেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে। সেমন্তী ও ডলি দ্বৈত গান এবং মামুন জাহিদ খান একক গান পরিবেশন করেন।
মিতা হকের সঙ্গে গানের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও বোনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন তামান্না খান পপি। এরপর ইশতিয়াখ আহমেদ টুটু, সুরাইয়া মোজাম্মেল ও ফারজানা তাবাসসুম টুম্পা একক গান পরিবেশন করেন তাঁর কাছে শেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে।
‘আমাদের মিতা আপা’ বিষয়ক কথনে অংশ নেন সৈয়দ সানাউল্লাহ। স্বদেশ পর্বে সুরতীর্থ কোরাস পরিবেশন করে। ‘দেশপ্রেমিক মিতা’ বিষয়ক কথন করেন এনামুল হক ওমর। দেশপ্রেমের বিষয় নিয়ে গান ও কথনে অংশ নেন লাইসা আহমদ লিসা।
মিতা হকের সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে গান ও কথন পরিবেশন করেন বুলবুল ইসলাম। এরপর ফারহিন খান জয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সুরতীর্থ ও সকল শিল্পীর সম্মিলিত পরিবেশনায় ছিল ‘প্রাণ ভরিয়ে, আমার মুক্তি’। গান, কথন ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে আয়োজনে মিতা হকের শিল্পীসত্তা, জীবনদর্শন, স্বদেশচেতনা, শিক্ষকতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার নানা দিক উঠে আসে।






