স্মৃতিতে রথো রাফি

সংগৃহীত ছবি
কবি ও সাংবাদিক রথো রাফির স্মরণে রাজধানী ঢাকায় মিলিত হয়েছিলেন তার বন্ধুরা। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের শর্ট ফিল্ম ফোরামের অডিটরিয়ামে এ আয়োজন করা হয়। এতে রথো রাফির সাহিত্যকর্ম, ব্যক্তিজীবন ও তার সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতি তুলে ধরেন বন্ধুরা। কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণা ও গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় তাকে।
আয়োজনে রথো রাফির ‘আধো গীতিকবিতা’ পাণ্ডুলিপি থেকে গান পরিবেশন করেন প্রবর রিপন ও মুয়ীয মাহফুজ। কয়েকজন তার লেখা কবিতা পাঠ করেন। কেউ কেউ রথো রাফিকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতাও শোনান।
রথো রাফির বন্ধুদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন কবি ও গল্পকার কাজল শাহনেওয়াজ, ছোট কাগজ ‘দ্রষ্টব্য’র সম্পাদক কামরুল হুদা পথিক, প্রকাশক সাগর নীল খান দ্বীপ, টঙ্গী সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা শওকত আলী, কবি ও প্রকাশক অর্ক অপু, কবি কামরুল কমল, শোয়েব সর্বনাম, শামস সোলায়মান, আমি খসরু স্বপন, সাংবাদিক মোজাব্বির হাসান ও সাঈদ জুবেরী।
স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কাজল শাহনেওয়াজ বলেন, রাফির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ছিল উদ্ভিদের সঙ্গে উদ্ভিদের সম্পর্কের মতো। সেখানে কোনো সাড়া-শব্দ বা শোরগোল নেই; গভীরে শিকড়ে শিকড়ে তৈরি হয় সম্পর্ক।
কামরুল হুদা পথিক রথো রাফির অপ্রকাশিত লেখাপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। সাগর নীল খান দ্বীপ তার সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণার পাশাপাশি রাফির একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। তবে নানা কারণে শেষ পর্যন্ত সেই বই প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
অসুস্থ হয়ে ঢাকা ছেড়ে টঙ্গীতে বসবাস শুরু করার পর কীভাবে রথো রাফির সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল, সেই স্মৃতি তুলে ধরেন শওকত আলী। অন্যদিকে, রথো রাফির বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কারণ এবং নানা ঝুঁকি পেরিয়ে বইটি প্রকাশের পেছনের গল্প শোনান অর্ক অপু।
গত ২২ অক্টোবর হৃদ্রোগসহ শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
১৯৭৫ সালের ৩১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন রথো রাফি। সাংবাদিকতা করেছেন দৈনিক সমকাল ও ভোরের কাগজে। তবে পরিচিতি ছিল মূলত কবি হিসেবে।
২০২০ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম ও একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষর ও বালির পৃথিবী’। ‘বারোমাস্যা’ ও ‘হৃদয়ের অনুবাদ’ নামে আরও দুটি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। এ ছাড়া গীতিকবিতাসহ বেশ কিছু কবিতা, গদ্য ও অনুবাদের পাণ্ডুলিপি রেখে গেছেন তিনি।



