শরতের শুভ্রতায় আসছে ‘মলুয়া’র পালা

‘মলুয়া’র দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
শরতের শুভ্রতায় এবার মঞ্চে আসছে ‘মলুয়া’। ময়মনসিংহ গীতিকার বহুল পরিচিত লোককাহিনি অবলম্বনে থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রযোজনায় পালাটি মঞ্চস্থ হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হবে প্রযোজনাটির প্রদর্শনী।
চন্দ্রাবতী রচিত ময়মনসিংহ গীতিকার অমর পালা ‘মলুয়া’র ভাষ্য, বয়ান ও নির্দেশনায় রয়েছেন সাইফুল জার্নাল। প্রেম, সাহস, আত্মত্যাগ ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রযোজনাটি। অভিনয়, সংগীত ও দৃশ্যভাষার সমন্বয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোককাহিনিটিকে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলার প্রয়াস রয়েছে এতে।
এর আগে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে ‘মলুয়া’র প্রথম মঞ্চায়ন হয়। পরদিন সেখানে আরও একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বনানীর যাত্রাবিরতিতেও পালাটির মঞ্চায়ন হয়।
‘মলুয়া’ প্রেম, মর্যাদা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর অদম্য শক্তির কালজয়ী আখ্যান। নাটকে মলুয়া কেবল প্রেমিকা বা স্ত্রী নন; প্রতিকূলতা, লাঞ্ছনা ও ক্ষমতাবানদের অত্যাচারের মুখেও আত্মমর্যাদা, সততা ও মানবিক শক্তি অটুট রাখা এক দৃঢ়চেতা নারীর প্রতীক। অন্যদিকে সমাজের চাপে নতিস্বীকার করা চাঁদ বিনোদের চরিত্র মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত পরাজয় দুর্বল বিবেকের, দৃঢ়চেতা নারীর নয়।
শতাব্দীপ্রাচীন এই পালাকে নতুন সময়ের ভাষা, দৃশ্যরীতি ও নাট্যনির্মাণে পুনরাবিষ্কার করেছে থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি। অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সৃজনশীল সেতুবন্ধন তৈরি করে প্রযোজনাটি প্রশ্ন তোলে—সময় ও সমাজ বদলালেও নারীর প্রতি বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের রূপ কি সত্যিই বদলেছে?
গানের দল ‘সর্বনাম’-এর সদস্য, বিভিন্ন নাট্যদলের অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পী ও নাট্যপরামর্শকদের যৌথ তত্ত্বাবধানে প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে। সংগীতনির্ভর পালা হিসেবে এর পারফরম্যান্স ডিজাইন করা হয়েছে একটি গানের দলকে কেন্দ্র করে। গানের পাশাপাশি দলের সদস্যরা অভিনয়েও অংশ নেন।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন হাসনাত রিপন, নুসরাত ইরা, সাইদুর শাহীন, শাহরিয়ার সজীব, প্রিয়ম মজুমদার, তাহাদিল আহমেদ, হুমায়রা স্নিগ্ধা, গোপি দেবনাথ, ফরহাদ শামীম, নানজীবা শৈলী, পি.তে ফজল, মারিয়া ইয়াসমিন, ধ্রুব, সানজিদা চৌধুরী অরিন ও উম্মে প্রেমা প্রমুখ।
প্রযোজনাটির পরামর্শক হিসেবে যুক্ত আছেন নাট্যশিক্ষক সাইদুর রহমান লিপন। নির্দেশনা সহযোগী সাইদুর শাহীন। ফোক ড্যান্স ফিউশন করছেন ফরহাদ শামীম। লোক ও প্রচলিত ধারা বজায় রেখে মিউজিক ডিজাইন করেছেন গোপী দেবনাথ; সহযোগী প্রিয়ম মজুমদার। গানের সুর প্রচলিত এবং নাট্যশিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্কের কাছ থেকে সংগৃহীত।
ফোক এসেন্স ধরে লাইট ডিজাইন করছেন ওয়াসিম আহমেদ; সহযোগী মুখলেসুর রহমান। সেট ও প্রপস ডিজাইনে তাহাদিল আহমেদ এবং সেট অর্নামেন্ট ও কস্টিউম ডিজাইনে আজমাইন আজাদ কথা। মাস্টার পেইন্টারদের ওরিয়েন্টাল পেইন্টের অনুপ্রেরণায় পোস্টার ও পাবলিকেশন ডিজাইন করেছেন অরূপ বাউল। ম্যাস মিডিয়া অ্যাক্টিভেশনে কাজ করছে থিয়েটার পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’। প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টে আলামিন খন্দকার এবং কোঅর্ডিনেশন ও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন আসিফ চৌধুরী।
নির্দেশক সাইফুল জার্নাল বলেন, “এই সময়ে মিউজিকের আদি ও প্রকৃত পারফরম্যান্সটা নাই হয়ে যাচ্ছে। পালা, পুঁথি, গাজীর গীত—যা ছিল বাংলার প্রাত্যহিক পালনের পরম্পরা, পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে এখন এর আয়োজন প্রায় শূন্য। আর যা-ও হয়, তা অপভ্রংশ। আমরা থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি সেই আদি লোক আঙ্গিকের মূল নির্যাস বা ‘এসেন্স’টুকু নিয়ে তা আধুনিক মঞ্চে পুনরায় সৃষ্টি (রিক্রিয়েট) করতে।”
প্রদর্শনীর জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০, ৩০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০০ টাকার টিকিট শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, টিকিটের সংখ্যা সীমিত। পছন্দের আসন নিশ্চিত করতে আগেভাগে টিকিট সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টিকিট ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৬৭৪ ৬১৭৭৬৭, ০১৮১৯ ৯২৯৩৯৭ ও ০১৮৩২ ৮২১৭৫২ নম্বরে।





