জুয়া চক্রে জড়িত, ৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ আসামি রিমান্ডে

ছবি: আগামীর সময়
টাকা পাচারের অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিকসহ ৮ আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচারের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তবে অপর আসামি রোকন উদ্দিনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন— এমএ জি, ঝাং জিয়াহাও, লিও জিঞ্জি, ওয়াং শিবো, চাং তিয়ানতিয়ান, জেমস ঝু, মো. কাউসার হোসেন ও মো. আব্দুল-কারিম।
এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে করেন আবেদন।
আসামিদের পক্ষের অ্যাডভোকেট পরিমল পাল, হেলাল উদ্দিন, সবুজ শেখসহ কয়েক জন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চান। শুনানি শেষে আদালত আট আসামির দুই দিনের রিমান্ড এবং রোকনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টার।
ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানালেন, গত ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ডিএমপি। এরই অংশ হিসেবে রাজধানী উত্তরা এলাকায় অভিযান চালায় সাইবার টিম। ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ছয় চীনা সদস্যসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘গতকাল বুধবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ)। বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আসছিল এই চক্রটি’— উল্লেখ করেন অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
আসামিদের থেকে অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানালেন, তিনটি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, একটি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, একটি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট এবং এনআইডি ও একটি টয়োটা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
‘এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় মামলা করেন ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ’— উল্লেখ করেন শফিকুল ইসলাম।




