হত্যার পর মরদেহ ৮ খণ্ড, প্রেমিকার দায় স্বীকার

ফাইল ছবি
রাজধানীর মুগদা এলাকায় প্রবাসী মো. মোকাররম মিয়াকে হত্যা মামলায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা বেগম। আজ বৃহস্পতিবার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি। একই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি আব্দুল মতিন দেওয়ানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন তাসলিমা। এ সময় তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল হক মিঠু। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয় আসামিকে।
এর আগে গত মঙ্গলবার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন আরেক আসামি হেলেনা বেগম। একই মামলায় হেলেনার মেজো মেয়ে হালিমাকে পাঠানো হয়েছে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোকাররমের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল একই গ্রামের আরেক সৌদি প্রবাসী সুমনের। সেই সুবাদে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার হাসনার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমিকা তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে ১৩ মে দেশে আসেন মোকাররম। পরিবারকে না জানিয়ে ওঠেন তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা আক্তারের মান্ডার বাসায়। এক রুমের ভাড়া বাসায় দুই মেয়েসহ থাকতেন হেলেনা। ওই দিন রাতে তাসলিমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন মোকাররম। তবে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তার থেকে নিজের দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান এবং মোবাইলে ধারণ করা ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন মোকাররম। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় দুজনের মধ্যে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বান্ধবী হেলেনাকে সঙ্গে নিয়ে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তাসলিমা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ মে সকালে মোকাররমের নাস্তায় ঘুমের ওষুধ দেন তারা। ওষুধের প্রভাব শুরু হলে মোকাররমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন হেলেনা। কিন্তু বাঁচার জন্য হেলেনার হাতে কামড় দেন মোকাররম। এ সময় তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন তাসলিমা। পরে পাশে থাকা বঁটি দিয়ে মোকাররমের গলায় কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন হেলেনা।
এ সময় মোকাররমকে হাঁতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন হেলেনার মেয়ে হালিমা। পরে বঁটি দিয়ে ৩-৪ বার আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তাসলিমা। হত্যার পর মোকাররমের লাশ আট খণ্ড করা হয়। পরে পলিথিনের বস্তায় ভরে রাখা হয় বাথরুমে। গভীর রাতে সুযোগ বুঝে লাশের সাত টুকরো পলিথিনে ভাড়া বাসার নিচে ময়লার স্তূপে ফেলে দেয় তারা। আর মাথার অংশ ফেলে আসে বাসা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের চাচা রফিকুল ইসলাম।




