শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা
৪ বছরেও সাক্ষীতে আটকা মামলা, ‘উধাও’ ৩৬ সাক্ষী
- উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন আসামিরা
- দ্রুত বিচারকাজ শেষ করতে চান পিপি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজ ছাত্রের আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে তার।
অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম জিতু ছিল দশম শ্রেণির ছাত্র। ওই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অপরাধকর্মে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে বড় অভিযোগ ছিল ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা। ছাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে জিতুকে সতর্ক করেছিলেন উৎপল। এতেই সব ক্ষোভ তার ওপর গিয়ে পড়ে।
২০২২ সালের ২৫ জুন দুপুরে কলেজে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। এ সময় তাদের সঙ্গে অসংলগ্ন আচরণ করেন জিতু। ঘটনার পর তখনই তাকে সতর্ক করেন উৎপল। ক্ষুব্ধ হয় জিতু। সঙ্গে সঙ্গেই ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষক উৎপলকে গুরুতর আহত করেন জিতু। দ্রুত উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে রাখা হয় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউতে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২৭ জুন মারা যান উৎপল।
এক দিন পর আশুলিয়া থানায় মামলা করেন উৎপলের ভাই অসীম কুমার সরকার। তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর ২০২৩ সালের ৩১ মে জিতু ও তার বাবা উজ্জ্বলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার এসআই মো. এমদাদুল হক। এর দেড় বছর পর ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। পরে ২৪ এপ্রিল বাদী অসীমের আংশিক সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। এর পর কেটে গেছে আরও এক বছর। অভিযোগপত্রের ৩৬ জন সাক্ষীর কারোর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের পর চার বছরেও সাক্ষীতেই ঝুলে আছে মামলাটি।
বর্তমানে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন এ মামলাটি। গত ১০ মে ধার্য ছিল সাক্ষ্য গ্রহণের দিন। তাই পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত। এ মামলায় জামিনে রয়েছেন জিতু ও তার বাবা উজ্জ্বল।
এ বিষয়ে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ইকবাল হোসেন বলছেন, ‘সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে আছে মামলাটি। সাক্ষীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবুও পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। সাক্ষীদের হাজির করে দ্রুত মামলার বিচার কাজ শেষ করতে চাই।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জাকিরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘জামিনে রয়েছেন দুই আসামি। নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। আদালতে সাক্ষী এলে আমরা জেরা করব।’
এ বিষয়ে মামলার বাদী অসীম কুমার সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তার কোনো সাড়া মেলেনি।




