এবার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিইসি আউয়াল, আটকে গেল কারামুক্তি

রবিবার কারাগার থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয় সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে—ছবি : আগামীর সময়
রাজধানীর আদাবর থানার গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এক্ষেত্রে এখনি তার কারামুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর যুক্তি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশকে হত্যা করেছেন হাবিবুল আউয়াল। তিনি একজন জ্ঞানপাপী। হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছেন। তার কাঁধে বন্দুক রেখে হাসিনা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন।’
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস জানান, তার চাকুরিজীবনে কালো কালির কোনো দাগ পড়েনি। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন৷ তিনি এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এই মামলার ঘটনাকালে তিনি ৭ সদস্যের পুলিশ প্রটেকশন নিয়ে চলতেন।
তিনি আদালতকে বলেন, হাবিবুল আউয়াল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, কোনো ব্যক্তিকে গুলিও করেনি। এমনকি তিনি কাউকে ঘটনায় জড়িত হতে উৎসাহিতও করেননি। আমরা তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করছি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
শেরেবাংলা নগর থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৫ সালের ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। এই অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম। এতে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাকিব আল হাসানসহ ১৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়।



