খুলনা
বাবা-মেয়ে হত্যা: ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

প্রতীকী ছবি
খুলনার লবণচড়ার দরগাপাড়ায় বাবাকে হত্যা এবং ধর্ষণের পর মেয়েকে হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় হত্যার ঘটনায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ধর্ষণের ঘটনায় একই আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ।
লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগাপাড়া এলাকায় ২০১৫ সালে বাবাকে হত্যা এবং ধর্ষণের পর মেয়েকে হত্যা করা হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুন হন ইলিয়াস চৌধুরী ও তার মেয়ে পারভীন সুলতানা। এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর লবণচরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ইলিয়াস চৌধুরীর ছেলে রেজাউল আলম চৌধুরী।
মামলা দায়েরের পর লিটন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বীকারোক্তিমূলকমূলক জবানবন্দিতে লিটন বলেছেন, ‘পারভীনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।’ তারপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার মিল থাকা ও আসামি একই হওয়ায় দুটি মামলারই বিচার হয় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।
দুটি মামলাতে রায় হয় ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই। বাবা হত্যার ঘটনায় আসামি মোহাম্মদ লিটন, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ, আজিজুর রহমান পলাশ ও শরীফুল ইসলাম নামে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩।
পৃথক রায়ে পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি মোহাম্মদ লিটন, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ, আজিজুর রহমান পলাশ ও শরীফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন একই ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন লিটন, সাইফুল ও আবু সাঈদ। বাকি দুজন পলাতক।
নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা করেন জেল আপিল।
এদিকে রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদন্ডাদেশ অনুমোদন এবং একই রায় হতে উদ্ভূত জেল আপিল দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। সে অনুসারে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে গত সপ্তাহে পারভীন সুলতানা হত্যার মামলাটি শুনানির জন্য আসে।
ঘটনার মিল থাকায় বাবা হত্যার মামলাটিও আসে এই বেঞ্চে। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ ছাড়া অন্য কোনো মামলা শুনানি করার এখতিয়ার না থাকায় বাবা হত্যার মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এমন পরিস্থিতিতে মামলা দুটি একই বেঞ্চে শুনানি করতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করে বাদীপক্ষ। পরে দুটি মামলার শুনানি করে রায় দেন হাইকোর্ট।




