পল্লী চিকিৎসক হত্যা
তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: আগামীর সময়
প্রায় ৭ বছর আগে রাজবাড়ীতে এক পল্লী চিকিৎসককে খুনের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৩ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের তিন আসামি হলেন বাবলু সরদার, টেকন সরদার ও গাজীয়ার সরকার।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজবাড়ীর দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী, রায়হান সরদার, হাবিবুর রহমান ওরফে হবি সরদার, হেলাল খান, জিল্লুর রহমান ও জিয়া মণ্ডল।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শামসুদ্দিন জুম্মন জানান, এই মামলায় ২২ আসামির মধ্যে একজন মৃত ব্যক্তির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। বাকি ২১ জনের মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডিত সবাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে আসামিদের মধ্যে সাতজন পলাতক। অপর দুই আসামি জিল্লু ও জিয়াকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গোয়ালন্দ থানার আতর আলী বাজারে পল্লী চিকিৎসক রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা মোবারক মোল্লা বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ফরিদপুর জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
পরে দ্রুত বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ৩০ সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গোয়ালন্দ থানার দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আসামি নজরুল ইসলাম মণ্ডল চেয়ারম্যান প্রার্থী আতর আলীর সমর্থন নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তবে নির্বাচনে আতর আলী হেরে যান। বিজয়ী হন হাফিজুল ইসলাম। নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই নজরুল ইসলাম ও আতর আলী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে বিজয়ী ও পরাজিত চেয়ারম্যান উপস্থিত হন।
আতর আলীর লোকজন সম্মেলনে হট্টগোল ও চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। পরে নেতারা তাদের শান্ত করেন। একপর্যায়ে বাবলু সরদার সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। পরে আতর আলী তিন রাস্তার মোড়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান নেন।
হাফিজুল ইসলামের কর্মী নিজাম ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। এ খবর শুনে বিষয়টি জানতে আবু ডাক্তার সেখানে যান। এ সময় তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পরে দ্রুত উদ্ধার করে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবু ডাক্তার।




