তিন নারীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ায় হাইকোর্টের রুল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বৈধ পাসপোর্টসহ সব ধরনের ভ্রমণ নথি থাকার পরও তিন নারী যাত্রীকে নেপাল যেতে ইমিগ্রেশনে বাধা দেওয়ার ঘটনা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এসংক্রান্ত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
রুলে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি, ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি, ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিচালক, শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি এবং ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে এতে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের রুলের জবাব দিতে হবে।
এ ঘটনায় পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার অতিরিক্ত আইজিপির কাছে করা অভিযোগটি তদন্তপূর্বক ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। পরে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘রিফা তামান্না, সোহানি ইসলাম সমাপ্তি ও নাজনীন সম্পর্কে বান্ধবী। তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের নামে কোনো মামলা বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই। নেপালে যাওয়ার উদ্দেশে গত ৮ আগস্ট তারা বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশনে তাদের আটকে দেওয়া হয়।’
তিনি আর বলেন, ‘তারা যখন নেপালে যেতে চেয়েছে, তাদের ইমিগ্রেশনে আটকে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করেছে- তারা কেন অবিবাহিত অথবা বিদেশযাত্রায় তাদের বাসার সম্মতি আছে কি না। পরবর্তী সময়ে তাদের ইমিগ্রেশন পার হতে দেওয়া হয়নি এবং কোনো কারণও দেখানো হয়নি।’
ইমিগ্রেশনে আটকে বিদেশ যেতে না দেওয়ায় তাদের টিকিট, বুকিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি হয় বলে দাবি করে এ আইনজীবী বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে গত ৩১ আগস্ট পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার অতিরিক্ত আইজিপির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়।’
‘ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ায় গত ৬ সেপ্টেম্বর বিবাদীদের কাছে আইনি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানেও জবাব না পেয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রিটটি করা হয় হাইকোর্টে। রিট আবেদনে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের আওতায় নাগরিকদের চলাফেরা ও সমতার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।
ভবিষ্যতে কোনো নারীকে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধু বৈবাহিক অবস্থা বা অভিভাবকদের সম্মতির বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানি না করার বিষয়ে নির্দেশনা এবং ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আরজি জানানো হয়েছে রিটে।



