কারাগারে মায়ের সঙ্গে কত শিশু জানতে চান হাইকোর্ট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বা দণ্ডিত মায়েদের সঙ্গে কতজন শিশু কারা হেফাজতে আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। কোন কারাগারে কতজন শিশু, তাদের কার বয়স কত, কোন পরিবেশে তাদের রাখা হচ্ছে, পাশাপাশি শিশু পরিচর্যার জন্য কারাগারে কী ব্যবস্থা আছে— এসব বিষয় উল্লেখ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর সোমবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বা দণ্ডিত মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তা, কল্যাণ ও বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না— জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের।
গত ৮ মে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে পরদিন হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ফারজানা আক্তার ও হোসনে আরা বেগম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুখ হোসেন ও সাইফুজ্জামান।
আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ বলেছেন, ‘মায়েদের সঙ্গে যে শিশুরা কারাগারে আছে, তাদের কীভাবে রাখা হচ্ছে, কোন পরিবেশে রাখা হচ্ছে, তাদের কীভাবে পরিচর্যা করা হয়, কারাগারে শিশুপরিচর্যার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বা নীতি কী, সে তুলনায় বাংলাদেশের কারাগারে শিশুপরিচর্যার ব্যবস্থা কেমন— এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা ও রুল চেয়ে রিট করেছিলাম। আদালত রুলসহ আদেশ দিয়েছেন।’
বাংলাদেশ কারাবিধির (জেল কোড) ৯৫৭ বিধি অনুযায়ী, নারী হাজতি ও কয়েদিরা চার বছর পর্যন্ত তাদের সন্তানদের কাছে রাখতে পারেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ছয় বছর পর্যন্ত সন্তানদের কাছে রাখার সুযোগ পান কারাবন্দি মায়েরা।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ওই শিশুসহ ২৯৯ শিশু (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) রয়েছে মায়েদের সঙ্গে। এসব শিশুর মায়েদের বেশিরভাগ মাদক মামলার আসামি। এর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩ জন। আর ছেলেশিশু ১৪৬ জন। এই শিশুদের মায়েরা কেউ সাজা খাটছেন, কারও মামলা রয়েছে বিচারের পর্যায়ে।
ঢাকা বিভাগের ১৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে শিশু রয়েছে ১০০ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ৯০ শিশু। রাজশাহী বিভাগের ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ২৫ শিশু। সিলেট বিভাগের ৫টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে রয়েছে ১৯ শিশু।
এ ছাড়া রংপুরে ৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২০ জন, বরিশাল বিভাগের কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে (মোট ৬টি কারাগার) ৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে আছে ১৩ জন শিশু।
মায়েদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি শিশু আছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। গত ৪ মে পর্যন্ত ওই কারাগারে ৫১ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ছেলেশিশু ২৪ ও কন্যাশিশু ২৭ জন। এই শিশুদের প্রায় সবাইকে থাকতে হয় কারাগারের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা সেলে, যেখানে অন্য সাজাপ্রাপ্ত বা হাজতিরা থাকেন। যাদের বেশিরভাগ হত্যা ও মাদক মামলার আসামি।






