এক টাকায় রোগী দেখেন ডা. সুমাইয়া

চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন রাজশাহীর চিকিৎসক সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল
এক টাকায় এখন কিছুই পাওয়া যায় না। অথচ এক টাকা ফিতে সাড়ে তিন বছর ধরে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন রাজশাহীর চিকিৎসক সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। অর্থাভাবে যারা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, তাদের জন্য প্রতিদিন খোলা থাকে তার ছোট্ট চেম্বারের দরজা।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় ডা. সুমাইয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। কিছুদিন আগে তার আরও দুই চিকিৎসক বোন যুক্ত হন। সুমাইয়ার বড় বোন ডা. আয়েশা সিদ্দিকা ও মেজো বোন ডা. ফারজানা মোজাম্মেল প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে এই ফার্মেসিতে রোগী দেখেন। সুমাইয়া প্রতিদিন রোগী দেখেন দুই ঘণ্টা।
২ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার সোনাদিঘি মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ‘ডা. সুমাইয়া ফার্মেসি’ নামের ছোট্ট চেম্বারের সামনে রোগীদের ভিড়। কেউ এসেছেন তানোর, কেউ পবা উপজেলা আবার কেউ নগরীর কোনো এলাকা থেকে। চেম্বারের ওপরের তলায় নামমাত্র খরচে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধাও রয়েছে। সুমাইয়া বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে বাবা চাইতেন আমরা চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই। চিকিৎসক হওয়ার পর তিনি বললেন, এখন মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। সেখান থেকে এক টাকায় চিকিৎসাসেবার শুরু।’
২০২০ সালে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন সুমাইয়া। চিকিৎসক হওয়ার পর পেশাগত উন্নতির পরিবর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথ বেছে নেন।
সুমাইয়া জানিয়েছেন, শুরুতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বাবা মীর মোজাম্মেল আলী বললেন, ‘একেবারে ফ্রি করলে অনেকে অস্বস্তি বোধ করবেন। এক টাকা হলেও রাখো। এতে রোগীর মনে হবে, তিনি চিকিৎসার একটি মূল্য দিয়েছেন। তার আত্মসম্মানও বজায় থাকবে।’
সুমাইয়া আরও বললেন, ‘যাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ, তারা এখনো এক টাকা দিয়েই চিকিৎসা নেন। তবে অনেক মধ্যবিত্ত ও সচ্ছল মানুষ এক টাকা দিতে অস্বস্তি প্রকাশ করতেন। কয়েক দিন আগে তাদের অনুরোধে ১০০ টাকা ফি চালু করা হয়েছে। আমরা কাউকে ফিরিয়ে দিতে চাই না। যার যতটুকু সামর্থ্য, সে ততটুকুই দিক। কিন্তু অর্থের কারণে যেন কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।’




