‘আমি আর পারছি না’ বলে ফেসবুক লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন জ্যোতিকা জ্যোতি। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ফেসবুক লাইভে এসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অনলাইন হয়রানি, কাজের সংকট ও আর্থিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। রবিবার সন্ধ্যায় করা ওই লাইভে তিনি বলেন, ‘আমি আর পারছি না।’
লাইভের শুরুতেই এ অভিনেত্রী জানান, নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর আমরা অনেক কথা বলি। কিন্তু যে মানুষটি সেই অবস্থার মধ্যে থাকে, তার কষ্টটা সে-ই জানে। আমি নিজেকে সব সময় শক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না।’
অভিনেত্রীর দাবি, গত দুই বছর ধরে তার হাতে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ নেই। এ সময়ে নিয়মিত অনলাইন হয়রানি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি। আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরে জানান, অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকে সাহায্য নিতে হচ্ছে, যা তাকে আরও মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।
জ্যোতিকা জ্যোতির ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়ে যায়। নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে একাধিক পক্ষের সমালোচনা, হুমকি এবং অনলাইন বুলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি। বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
অভিনেত্রীর দাবি, এসব ঘটনার প্রভাব তার পেশাগত জীবনেও পড়েছে। অনেকেই তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান। ফলে তার অভিনয়জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না। আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবনটা নরকের মতো হয়ে গেছে।’
ফেসবুক লাইভে রাষ্ট্রের প্রতিও আবেদন জানান জ্যোতিকা জ্যোতি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির অবসান চান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
লাইভের শেষদিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি হেল্পলেস। আমি দুঃখিত, এভাবে আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হলো। কিন্তু আমার আর শক্তি নেই। আমার মনে হচ্ছে, আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’
জ্যোতিকা জ্যোতির এই ফেসবুক লাইভ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





