আজমুল হত্যা: মেস ম্যানেজার মেহেদীকে খুঁজছে পুলিশ

আজমুল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ সকালে খুলনা বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক অবরোধ করেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: আগামীর সময়
খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডে মেসের ম্যানেজার মেহেদীকে খুঁজছে পুলিশ। তবে আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি তার পূর্ণ পরিচয় ও ঠিকানাও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গত শনিবার সকাল থেকে তিনি পলাতক।
মেহেদী গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডে সরোয়ার হোসেনের চারতলা বাড়ির মেসের ডি-২ কক্ষে থাকতেন। ওই মেসের ম্যানেজারও ছিলেন।
পুলিশ জানায়, আজমুলকে মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় মেহেদীও সঙ্গে ছিলেন। সেখানে চিকিৎসক আজমুলকে মৃত ঘোষণা করার পর থেকে তিনি পলাতক।
হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, মেসের ম্যানেজার মেহেদীর পরিচয় ও ঠিকানা উদ্ধারের পাশাপাশি তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তার নাম-ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজমুলের বাবা মো. কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বাড়ির মালিকের কাছে মেসের ম্যানেজার মেহেদীসহ আসামিদের ঠিকানা থাকার কথা। কেন তার কাছ থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? মেহেদীকে গ্রেপ্তার করলেই হত্যাকাণ্ডের সব তথ্য জানা যাবে।’
এদিকে আজমুল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নগরীর সোনাডাঙ্গায় খুলনা বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক অবরোধ করেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ চলায় নগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসকের আশ্বাসে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আজমুলকে দীর্ঘ সময় মারধর করা হয়েছে এবং তার চুল কেটে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগও করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, আজমুলের বাবার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভাত খাওয়ার মতো তুচ্ছ কোনো বিষয় নয়, অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।
আজ দুপুর ১টার পর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ ও কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
আলোচনা শেষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলেরও আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে আজমুল হোসেন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সোনাডাঙ্গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন করেন।
গত শুক্রবার রাতে নগরীর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলামনগর রোডের একটি চারতলা মেসের বাইরে পাওয়া যায় আজমুলের মরদেহ। তিনি ছিলেন নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ওই মেসেই তিনি থাকতেন।
গত শনিবার রাতে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন। এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।




