নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

জি এম নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম
সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নজরুলকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবনে (ন্যাম ফ্ল্যাট) ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর নজরুল ও মাকসুদাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
এরপর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। তাতে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আসামি করা হয় নজরুল, মাকসুদা এবং নজরুলের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে।
সেই মামলায় মাকসুদাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।
তিনি রবিবার সকালে আগামীর সময়কে বলেন, মাকসুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সংসদ সদস্য নজরুলকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রবীণ রাজনীতিক নজরুল সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জামায়তে ইসলামী থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর দিয়েছিলেন। তখন তার প্রথম স্ত্রীও স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেন।
তবে নৈতিক স্খলনের কারণ দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপরও নজরুলের সংসদ সদস্য পদ টিকে আছে।
ওই ঘটনার পরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন নজরুল। সেই ফ্ল্যাটেই পাওয়া যায় মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ।
জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গী দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন সংসদ সদস্য আগামীর সময়কে বলেন, মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের ধারণা।
তবে কেন এই ধারণা, সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি। এদিকে ওই ফ্ল্যাট থেকে কিছু চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেগুলোয় নজরুলকে দায়ী করে বিভিন্ন লেখা রয়েছে।
চিরকুটগুলো সিআইডির ফরেনসিক দল পরীক্ষা করে দেখছে যে সেগুলো আসলেই মরিয়মের হাতের লেখা কি না?
লাশ উদ্ধারের সময় নজরুল ফ্ল্যাটে ছিলেন না। তিনি দুপুরেই দ্বিতীয় স্ত্রী সংক্রান্ত একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিননামা দাখিল করতে গিয়েছিলেন ঢাকার আদালতে।
ভিডিও ভাইরালের ঘটনার পর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান একটি মামলা করেন নজরুলের বিরুদ্ধে। গত ২১ জুলাই ঢাকার পল্লবী থানায় করা সেই মামলায় ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, মরিয়মের সঙ্গে নজরুলের অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁস করার সন্দেহে তাকে মারধর করা হয়েছে।
ওবায়দুর এক সময় সংসদ সদস্য নজরুলের গাড়ি চালাতেন। তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও রয়েছে। সেই সূত্র ধরে পল্লবীতে মরিয়মদের বাসায় যাতায়াত ছিল নজরুলের।
এই সুযোগে নজরুল বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মের সঙ্গে অপ্রীতিকর সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে ওবায়দুরের অভিযোগ। তার দাবি, তিনি এর প্রতিবাদ করতেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, অন্তরঙ্গ ভিডিও নিয়ে কেউ নজরুলকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছিল। এতে ওবায়দুর জড়িত সন্দেহে নজরুল তার ওপর হামলা চালায়।
হত্যাচেষ্টার অভিযোগের এ মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পান নজরুল। সেই জামিননামা তিনি দাখিল করতে গিয়েছিলেন ঢাকার আদালতে।



