জ্বালানির দাম বৃদ্ধি
কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়তে পারে বাসভাড়া

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর পর বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বাড়তে পারে ২০ পয়সা।
সোমবার বিকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভাড়া সমন্বয়সংক্রান্ত প্রাক-বৈঠকে এ প্রস্তাব চূড়ান্ত হতে পারে। এদিন বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া বৈঠকটি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকাল পৌনে ৫টায়ও চলছিল।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র আগামীর সময়কে জানিয়েছে, বিআরটিএর পক্ষ থেকে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। তবে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতি কিলোমিটারে অন্তত ৪০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গতকাল রবিবার রাতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম আজ সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাসসহ অধিকাংশ গণপরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। ফলে প্রতি লিটার ডিজেলে পরিবহন ব্যয় সরাসরি ২০ টাকা বেড়েছে। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাস পরিচালনার সামগ্রিক ব্যয়ে পড়ায় ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বিআরটিএ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পরিস্থিতিতে বাসের পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি খরচ ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করে ভাড়া সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। দূরপাল্লা, মহানগর ও অন্যান্য শ্রেণির বাসের ক্ষেত্রেও পৃথক হিসাব বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে কোন শ্রেণির বাসে কত ভাড়া বাড়বে, তা সরকারের সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে বাসের ভাড়া সমন্বয়ের সর্বশেষ নজির চলতি বছরের এপ্রিলেই। তখন সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করেছিল। একই সময়ে অকটেনের দাম ২০ টাকা, পেট্রলের ১৯ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ-সংক্রান্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে।
২৩ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করা হয়। অর্থাৎ দূরপাল্লা ও মহানগরের বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা করে বেড়েছিল।
তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই প্রতিবার বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৮০ টাকা থেকে এক লাফে ১১৪ টাকা করা হলে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ৪০ পয়সা এবং মহানগরের বাসের ভাড়া ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। পরে ডিজেলের দাম ৫ টাকা কমানো হলে ওই বছরের ৩১ আগস্ট দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়।
এরপর ২০২৪ সালের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ টাকা কমানো হলে দূরপাল্লা ও মহানগরের ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৩ পয়সা কমানোর সুপারিশ করেছিল বিআরটিএ।
এবার ডিজেলের দাম আগের এপ্রিলের তুলনায় আরও ২০ টাকা বেড়েছে। ফলে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে বেশি হারে ভাড়া বাড়ানোর দাবি উঠেছে। অন্যদিকে যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপ কতটা পড়বে, সেটিও ভাড়া সমন্বয়ের আলোচনায় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বিআরটিএর আজকের বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতেই এখন বাসভাড়া সমন্বয়ের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোবে। তবে চূড়ান্ত ভাড়া কত হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।





