প্রশাসকের ওপর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক কাটল ডিএনসিসি

সড়ক কেটে কারখানায় যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয় ডিএনসিসি। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার উত্তরখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি কারখানার সামনের সড়ক কেটে দিয়েছে ডিএনসিসি। সিটি করপোরেশনের দাবি, সেখানে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত নালা নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তবে সেই সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বিবাদমান কারখানার মালিকপক্ষকে ভোগান্তিতে ফেলতেই কাটা হয়েছে সড়কটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় অবস্থিত নেপচুন অ্যাকসেসরিজ সলিউশনের সামনের সড়ক খনন করেছে ডিএনসিসি। সেই মাটি রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা। ঘটনার পর থেকে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের উপকরণ উৎপাদনকারী কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। কারখানার ভেতরে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া না গেলেও কয়েকজন কর্মীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য করা হয়েছে এটি।
স্থানীয় দুটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পর রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে সিটি করপোরেশনের একটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে কারখানার সামনের সড়ক কেটে ফেলা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিএনসিসির অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা জানান, ওই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি নালা নির্মাণের প্রয়োজন ছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের বাধার কারণে কাজটি করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য, আগের দিনের ঘটনার পর কাজ শুরু করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সড়ক কেটে নালা নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, বিরোধের সূত্রপাত হয় নেপচুন অ্যাকসেসরিজ সলিউশনের সামনে স্থাপিত একটি অস্থায়ী সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনকে (এসটিএস) ঘিরে। ২০২৩ সালে কারখানার সামনে এই এসটিএস নির্মাণ করে ডিএনসিসি।
কারখানার কর্মীদের দাবি, সেখানে জমা হওয়া বর্জ্যের দুর্গন্ধে কাজের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল। এমনকি বিদেশি ক্রেতারাও আপত্তি জানিয়েছিলেন। পরে আদালতের শরণাপন্ন হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ এসটিএসে বর্জ্য রাখার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পান।
কারখানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর এসটিএসের ভেতরে বর্জ্য না রেখে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কারখানার সামনের সড়কেই ময়লা ফেলতে শুরু করেন। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছিল। বহুবার আপত্তি জানানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলেও দাবি তার।
কারখানার গ্রাফিকস বিভাগের এক কর্মীরও অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তার ওপর বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। সোমবার দুপুরেও সড়কের ওপর বর্জ্য ফেলতে দেখা যায়, ফলে কারখানার প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
তবে এসটিএসের কর্মী হাসমত আলী মন্তব্য করেন, আদালতের আদেশের কারণে এসটিএসের ভেতরে বর্জ্য রাখা যাচ্ছে না। তাই আপাতত সরকারি সড়কের অংশে বর্জ্য রাখা হচ্ছে। পরে রাতের বেলায় সেগুলো ডাম্প ট্রাকে করে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়।
সিটি করপোরেশন, কারখানা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে কারখানার সামনে বর্জ্য ফেলা নিয়ে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কারখানার এক ব্যবস্থাপকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে বিকেলে ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
কারখানার কর্মীদের দাবি, মালিককে হেনস্তা করা হলে শ্রমিকেরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে ডিএনসিসির দাবি, প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ভাষ্য, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় মালিকপক্ষের ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা’ অতর্কিতে হামলা চালায়।
উত্তরখান থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ডিএনসিসি বাদী হয়ে মামলা করেছে। এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।






