রাবিতে প্রতিবাদের মুখে সরল যুদ্ধাপরাধীদের ছবি

সংগৃহীত ছবি
তীব্র বিতর্ক, সমালোচনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে বিলবোর্ড থেকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজনের ছবি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনাম দিয়ে গত শনিবার বিলবোর্ডটি টানায় ‘নভোকালচার’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনটির পরিচালক হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।
এদিকে একই ইস্যুতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
রাবির বিলবোর্ডে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিলবোর্ডটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় বিতর্কের। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার বিকালে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রাত পর্যন্ত আন্দোলন চলার পর তারা প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে দুই উপ-উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর প্রশাসন বিলবোর্ড থেকে বিতর্কিত ছবিগুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।
বেরোবির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হিসেবে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। যার মধ্যে সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবিও ছিল। এমন একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।




