রেড ক্রিসেন্টের জরিপ
হামের চিকিৎসা করাতে ৮৯% পরিবার ঋণগ্রস্ত
- চিকিৎসায় পরিবারপ্রতি ব্যয় ১৬ হাজার টাকা
- ক্ষতিগ্রস্ত ২৪০০ পরিবার পাবে আর্থিক সহায়তা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সন্তানের জীবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবারগুলোর ওপর চেপে বসেছে খরচের ভার। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এলো, সন্তান হারানোর বেদনার পাশাপাশি ঋণের বোঝার নিচে চাপা পড়ার তথ্য। দেখা গেল, প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ছয়টিকেই হামের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজেদের জমানো সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে করতে হয়েছে ঋণ।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) যৌথভাবে চালিয়েছে এই জরিপ। যার ফলাফল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল সোমবার।
জরিপের উদ্দেশ্য, হামের প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া। এজন্য দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর চালানো হয় এই জরিপ।
এতে অংশ নেওয়া প্রতিটি পরিবারই জানিয়েছে, ধকল সামলে উঠতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার ওষুধকে সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ৩৩ শতাংশ পরিবারের প্রয়োজন নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত (ওয়াশ) সহায়তা এবং ২২ শতাংশ বলেছে খাদ্যসহায়তা প্রয়োজনের কথা।
যে পরিবারগুলো জরিপে অংশ নিয়েছে, সেগুলোর ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ৪ বছরের নিচে। এ ছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী রয়েছে ৬ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে ব্যয় করেছে। এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ পরিবারকে বিক্রি করতে হয়েছে সম্পদ। আর অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে প্রায় ৩ শতাংশ পরিবারকে।
যে পরিবারগুলো পেশাগত তথ্য দিয়েছে, তাদের ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে যুক্ত, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের চিকিৎসার জন্য লম্বা সময় হাসপাতালে থাকায় আয় হারাতে হয়েছে অনেককে, ঘটেছে চাকরি হারানোর ঘটনাও।
জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই সহায়তার পরিমাণ পরিবারপ্রতি ১০ হাজার টাকা, জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল কবির এম আশরাফ আলম বললেন, ‘এই মূল্যায়ন অনুযায়ী, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্যসংকট নয়, একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে। আমাদের জরুরি সাড়ার অংশ হিসেবে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’
হামের প্রভাব শুধু হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না উল্লেখ করে বাংলাদেশে আইএফআরসির হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বললেন, ‘অসুস্থ শিশু বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক পরিবার কঠিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। এই মূল্যায়নের ফলাফল বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা— দুটিই জরুরি।’




