লক্ষ্মীপুর
১৪ বছরের শিক্ষার্থীকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে মামলা, পাঠানো হলো কারাগারে

মামলার এজাহারে ১৪ বছরের মো. রিমনের বয়স লেখা ছিল ১৯ বছর। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এক মামলায় মো. রিমন নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী রিমনের বয়স ১৪ বছর ২ মাস হলেও মামলার এজাহার ও আদালতে দাখিল করা নথিতে তার নাম ও বয়স নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।
রিমন রামগতি উপজেলার চর মেহার আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র। উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চরমেহার গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তিনি। রবিবার বিকেলে চরমেহার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘বাচ্চু প্রকাশ রিপন’ এবং বয়স দেখানো হয়েছে ১৯ বছর। তবে জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে নাম ও বয়সের মিল পাওয়া যায়নি। আদালতে সোপর্দ করার সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান নাম সংশোধন করলেও বয়স উল্লেখ করেন ১৩ বছর ১১ মাস ২৯ দিন।
আসামীপক্ষের আইনজীবী আবদুর রব সুমন বলেন, ‘সকালে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় রিমনকে আদালতে সোপর্দ করে রামগতি থানা পুলিশ। ছোট মানুষ, তার এখনো রাজনীতি করার বয়স হয়নি। এতে আমরা তার জামিনের জন্য মানবিক আবেদন করেছি।’ তিনি জানান, এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি হওয়ায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
তিনি আরও জানান, ‘মঙ্গলবার হাজিরা আছে। এজন্য আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। পরে তাকে গাজীপুরের শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।’
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে সকালে চর আলগী ইউনিয়নের চরনেয়ামত গ্রামের মধ্য পূর্ব আলেকজান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের নিচে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করেন এবং সেই কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করেন তারা। এ ঘটনায় ৪ জুন রামগতি থানার উপপরিদর্শক ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে রিমনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় রিমনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বয়স কম না বেশি, তা তদন্তের বিষয়।




