আগামীর চোখ
শিক্ষা ‘শহরমুখী অ্যাডভেঞ্চার’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
দোস্ত মফিজ,
আশা করি সন্দ্বীপের কারগিল সরকারি স্কুলে শিক্ষকবিহীন ক্লাসরুমে বসে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে সময়টা বেশ ভালোই কাটাচ্ছিস। তোদের জন্য আমার মাঝে মাঝে হিংসা হয় রে! তোদের স্কুলে নাকি বাংলা, ইংরেজি, গণিত— কোনো বিষয়েরই শিক্ষক নেই! ১২টি পদই খালি! ভাবা যায়? তোদের ওপর শিক্ষার চাপ নেই। অন্যদিকে আমাদের চট্টগ্রাম শহরের কলেজিয়েট স্কুল বা মুসলিম হাই স্কুলের কষ্টটা একবার চিন্তা করে দেখেছিস? এখানে একেকটা বিষয়ে অনুমোদিত পদের চেয়ে দু-তিন জন করে শিক্ষক বেশি! ক্লাসে একজন শিক্ষক যখন পড়ান, বাকি শিক্ষকরা তখন পেছন থেকে ওনার উচ্চারণের ভুল ধরেন বা অতিরিক্ত জ্ঞান বিতরণ করেন। এই অতিরিক্ত জ্ঞানের চাপে আমরা শহরবাসী পিষ্ট, দোস্ত!
তোরা হয়তো অভিযোগ করবি যে, শিক্ষক না থাকায় তোদের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে শুধু ইংরেজি আর গণিতেই ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। কিন্তু গভীরভাবে ভেবে দেখ, এটাই তো আসল শিক্ষা! আমাদের দেশে চিকিৎসাসেবা নিতে হলে যেমন লাইনে দাঁড়িয়ে শহরে আসতে হয়, চাকরির ইন্টারভিউ দিতে হলে যেমন গ্রাম ছেড়ে ঢাকার বাসের টিকিট কাটতে হয়, তেমনি শিক্ষা নিতে শহরে আসবি না কেন? শিক্ষাটাকেও একটা ‘শহরমুখী অ্যাডভেঞ্চার’ হিসেবে দেখ না! গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে পড়ালেখা করাটাই তো শিক্ষার আসল পার্ট!
এখানে একেকটা বিষয়ে অনুমোদিত পদের চেয়ে দু-তিন জন করে শিক্ষক বেশি
তা ছাড়া, আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যটা দেখ। উচ্চশিক্ষা বহুদিন আগেই ‘বিদেশমুখী’ হয়ে গেছে। যারা জ্ঞানী, তারা ডিগ্রি নিতে সরাসরি বিলেত বা আমেরিকা ছোটেন। সেই মহৎ ঐতিহ্য অনুসরণ করে আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষাটা না হয় একটু ‘শহরমুখী’ই হলো! মাধ্যমিক লেভেলেই যদি গ্রাম ছেড়ে শহরে আসার অভ্যাস না হয়, তবে ভবিষ্যতে বিদেশে কীভাবে পাড়ি জমাবি?
আমাদের শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন স্যার তো বলেই দিয়েছেন— শিক্ষকরা রাজনৈতিক ক্ষমতা আর প্রভাব খাটিয়ে শহরে চলে আসেন, কারণ দুর্গম এলাকায় নাগরিক সুবিধা কম। তো ভাই, শিক্ষকরা যেখানে সব সুবিধা নিয়ে শহরে বহাল তবিয়তে আছেন, তোরা কেন সেই সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষদের সান্নিধ্যে আসতে পিছপা হবি? গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আয়। তোদের ওখানে শূন্য পদ খালি পড়ে থাক, আর আমরা এখানে আট পদের বিপরীতে ১০ জন শিক্ষক নিয়ে জ্ঞানের সাগরে হাবুডুবু খাই!
ভালো থাকিস। আর হ্যাঁ, পড়ালেখা নিয়ে বেশি চিন্তা করিস না, জ্ঞান তো আর স্কুলে থাকে না— থাকে শহরে!
ইতি
শহরবাসী ‘অতিরিক্ত শিক্ষিত’ বন্ধু বল্টু



