সালমান শাহ হত্যা মামলা: পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ

সালমান শাহ। ছবি: সংগৃহীত
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ দিন ধার্য করেন।
আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। পরে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। ওই নির্দেশের পরদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। আসামিদের মধ্যে শুধু ডন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ২৭ আগস্ট তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। পরে আদালত সিআইডিকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।
তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এরপর কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী নীলা চৌধুরীকে মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নারাজির আবেদন করেন।
সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। পরে ২০২২ সালের ১২ জুন ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করা হয়।








