কাফরুল থানায় যুবদল কর্মী হত্যার দায় স্বীকার ৪ আসামির

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার কাফরুল এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজ হত্যাকে গুলি করে হত্যা মামলায় চার আসামি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ সোমবার ঢাকার পৃথক চারটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তবে আরেক আসামি জিয়ারুল মোল্লা প্রথমে জবানবন্দি দিতে সম্মত হলেও বিচারকের কাছে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একই মামলায় দুই আসামি আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলেন জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান ও আবির হাওলাদার।
এদিন গ্রেপ্তার সাত আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের এসআই রায়হান হোসাইন পাঁচ আসামির জবানবন্দি ও দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে জিহাদ, আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে মাসুম বিল্লাহ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামি নাহিদের এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আবির জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জিয়ারুলকে নেওয়া হয়। তবে তিনি জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম আসামি আলী ও শাফিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে রবিবার বিকালে মিরপুর-১৩ নম্বরের পাঁচ তলা মোড় সংলগ্ন মিনা বাজারের একটি গ্যারেজ থেকে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কাফরুল থানা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাফিজুল ইসলাম বাবু, ইউসুফসহ কয়েকজন কথা বলছিলেন। এ সময় আসামি চঞ্চল ও তার সহযোগীরা ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে’ ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলি তার বুকের ডান পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে লোকজন আতঙ্কে ছুটাছুটি শুরু করে। আসামিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও পথচারী মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। লোকজন গুলিবিদ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানে মারা যান ইউসুফ।
পালানোর সময় কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৩ এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে চঞ্চল মোল্যাকে লোকজন আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ কলে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি চঞ্চল নিজের পরিচয় দেন। পাশাপাশি জিহাদ মোল্লা, মো. জিয়ারুল, হাসানসহ কয়েকজনের নাম বলেছেন, যারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় চঞ্চল তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। পাশাপাশি কাফরুল থানায় আরেকটি হত্যা মামলা হয়।





