তনু হত্যায় হাফিজুরের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ

সোহাগী জাহান তনু ও সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের জামিন স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তনু হত্যার দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি।
পরে গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান হাফিজুর রহমান। জামিন আদেশের পর ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বৃহস্পতিবার লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। এর উপর শুনানি করে আদালত আদেশ দেন।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, তনু হত্যা মামলার আসামিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাফিজুর রহমানকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হলে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চেম্বার আদালত আগামী রবিবার পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছেন।
২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন এ আসামি। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২২ এপ্রিল বিকালে কুমিল্লা আদালতে হাজির করার আগে ওইদিন সকালে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।






