প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করছে সরকার, অভিযোগ নাহিদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সংগৃহীত ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
আজ শুক্রবার বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক এ অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, শিক্ষিত বেকারদের শেষ আশ্রয়স্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগেও চূড়ান্ত প্রহসনের নজির স্থাপন করেছে তারেক রহমানের সরকার। লিখিত ও অন্যান্য ধাপের পরীক্ষায় মেধার প্রমাণ দেওয়ার পরও নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়ে দীর্ঘ আট মাস ধরে ভেরিফিকেশনের নামে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত এসব তরুণকে নিয়োগপত্র না দিয়ে গভীর হতাশার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শুধু চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের ভবিষ্যৎ নয়, রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নাহিদ ইসলামের মতে, বাদ পড়া প্রার্থীদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে থানায় কোনো ফৌজদারি মামলা বা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য নেই। অতীতেও তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন— এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপরও কোনো স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বলেন, মেধা, যোগ্যতা ও নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও যদি কোনো নাগরিককে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রতি অবিচারের পাশাপাশি রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ নেই, এমন প্রত্যেক প্রার্থীর নিয়োগ অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড কী ছিল, তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।



