রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যায় ২ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ৫

ফাইল ছবি
রংপুরে মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যার দায়ে ২ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি ৫ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন জেএমবির কমান্ডার মাসুদ রানা ও লিটন মিয়া।
খাসাল পেয়েছেন জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল (৩০), সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান (৩০), জেএমবির উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি (৩০) ও চান্দু মিয়া (২০)।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
পরে আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় রহমত আলী নামে একজন খাদেমকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে একটা মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে কারও নাম ছিল না। সেটা চার্জশিট হয় দীর্ঘ তদন্তের পর। চার্জশিটে নাম আসে ১৪ জনের। তারপরে ট্রায়ালটা কমপ্লিট হয়। ট্রায়াল আদালতে সাতজনের ফাঁসি দেওয়া হয়। বাকি সবাইকে খালাস দেওয়া হয়।
তিনি বলেছেন, হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আসামিদের করা আপিলের শুনানির পর রবিবার রায় দেওয়া হয়। রায়ে দুইজনের ফাঁসি বহাল আছে, পাঁচজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার এ মামলায় ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। সেই সময় বাকি ৬ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ের মাজারের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি টেপামধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং চৈতার বাজারে ওষুধের দোকান করতেন। রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে চৈতার মোড়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
রহমত আলী সুরেশ্বরী পীরের অনুসারী ও মাজারের খাদেম ছিলেন। তার বাড়িতে একটি দরবার ছিল।
এ ঘটনায় তার ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম কাউনিয়া থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে বাইক হাসান ও সাদ্দাম হোসেন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।





