এনসিপি জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে: শাজাহান খান

ছবি: আগামীর সময়
এনসিপি জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলার শুনানি শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই মামলায় শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবীর শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানি শেষে শাজাহান খান বলেন, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।
এদিন কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করা হয়। এরপর তাদের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আগামী ১৫ অক্টোবর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি দুদক। এজন্য আগামী ২৫ নভেম্বর প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য করা হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি এলাকা থেকে শাজাহান খানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আসিবুরকে। এরপর থেকে তারা কারাগারে আটক রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ কমিশনের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় শাজাহান খানের সঙ্গে তার ছেলে আসিবুর রহমানকেও আসামি করা হয়। পরে গত ৭ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহাথীর সুহাম্মদ সামী।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামি মো. আসিবুর রহমান আয়করদাতা হওয়া সত্ত্বেও তার নামে মোট ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ২৪৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৮৩ টাকা। ফলে তার নামে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৬৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে এজাহারে বলা হয়। সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে তার সন্তান আসিবুর রহমানের নামে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।



